ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ভয়াবহ বন্যায় নাকাল উত্তর-পূর্বাঞ্চল: ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি, ৫১ জনের মৃত্যু

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যা ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ৫১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ভয়াবহ এই বন্যায় প্রায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবার সকাল ৯টার তথ্যমতে, দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে চারটি নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। এছাড়া নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

দেশের ৮২টি নদ-নদীর পানি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সুরমা, তিস্তা ও মুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা ওইসব অববাহিকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জামালপুরে সর্বোচ্চ ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লায় ১৭৪ মিলিমিটার, বগুড়ায় ১৬৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৫৭ মিলিমিটার অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয়েও ব্যাপক বৃষ্টিপাত বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে।

বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বান্দরবান ও কক্সবাজারের পরিস্থিতি এখনো নাজুক। টানা বৃষ্টির কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন। প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ ১,১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কুড়িগ্রামসহ অন্যান্য নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাকনির্ভর রপ্তানিতে ধাক্কা: যুক্তরাজ্যের বাজারে ধীরগতি

ভয়াবহ বন্যায় নাকাল উত্তর-পূর্বাঞ্চল: ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি, ৫১ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০১:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যা ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ৫১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ভয়াবহ এই বন্যায় প্রায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবার সকাল ৯টার তথ্যমতে, দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে চারটি নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। এছাড়া নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

দেশের ৮২টি নদ-নদীর পানি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সুরমা, তিস্তা ও মুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা ওইসব অববাহিকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জামালপুরে সর্বোচ্চ ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লায় ১৭৪ মিলিমিটার, বগুড়ায় ১৬৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৫৭ মিলিমিটার অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয়েও ব্যাপক বৃষ্টিপাত বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে।

বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বান্দরবান ও কক্সবাজারের পরিস্থিতি এখনো নাজুক। টানা বৃষ্টির কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন। প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ ১,১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কুড়িগ্রামসহ অন্যান্য নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।