ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ত্বকী হত্যার ১৩ বছর: ১০৫ বার পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন, বিচারহীনতায় ক্ষুব্ধ পরিবার

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এ পর্যন্ত ১০৫ বার পিছিয়েছে। নিহতের পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রভাবশালী মহলের প্রশ্রয়ের কারণেই এই মামলার চার্জশিট এখনো আদালতে জমা পড়েনি।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায় এবং তদন্ত চলাকালে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানান, প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে টর্চার সেলে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৪ সালে র‍্যাব সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এক যুগেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই তদন্ত থমকে গিয়েছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি আশাবাদী যে, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ গত জুলাই মাসেও তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাবের পক্ষ থেকে সময় আবেদন করা হলে আদালত পুনরায় প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন। দীর্ঘসূত্রতার এই বেড়াজালে বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ত্বকীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন সমাজ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত: শ্রেষ্ঠ কর্মীদের সম্মাননা প্রদান

ত্বকী হত্যার ১৩ বছর: ১০৫ বার পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন, বিচারহীনতায় ক্ষুব্ধ পরিবার

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এ পর্যন্ত ১০৫ বার পিছিয়েছে। নিহতের পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রভাবশালী মহলের প্রশ্রয়ের কারণেই এই মামলার চার্জশিট এখনো আদালতে জমা পড়েনি।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায় এবং তদন্ত চলাকালে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানান, প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে টর্চার সেলে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৪ সালে র‍্যাব সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এক যুগেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই তদন্ত থমকে গিয়েছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি আশাবাদী যে, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ গত জুলাই মাসেও তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাবের পক্ষ থেকে সময় আবেদন করা হলে আদালত পুনরায় প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন। দীর্ঘসূত্রতার এই বেড়াজালে বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ত্বকীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন সমাজ।