ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি: সাপের উপদ্রবে এক সপ্তাহে আহত ৮৬ জন, স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

চলমান বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে সাপের কামড়ে অন্তত ৮৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ৮৩ জনের আঘাত বিষহীন সাপের কামড়ে। সোমবার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম নিশ্চিত করেছেন যে, বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ও বসতবাড়িতে সাপে কাটার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে বোয়ালখালীতে ২০ জন, পটিয়ায় ১৮ জন, বাঁশখালীতে ১২ জন, রাউজানে ৯ জন, হাটহাজারীতে ৮ জন, সাতকানিয়ায় ৬ জন, আনোয়ারায় ৫ জন, চন্দনাইশে ৩ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন এবং লোহাগাড়ায় ২ জন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়, বসতবাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসছে, ফলে সাপের কামড়ের ঝুঁকি বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার করা, পানিতে নামার আগে লাঠি দিয়ে স্থান পরীক্ষা করা, ঘরবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সাপে কামড়ালে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা যুদ্ধের প্রভাবে ইসরায়েলে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি

চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি: সাপের উপদ্রবে এক সপ্তাহে আহত ৮৬ জন, স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চলমান বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে সাপের কামড়ে অন্তত ৮৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ৮৩ জনের আঘাত বিষহীন সাপের কামড়ে। সোমবার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম নিশ্চিত করেছেন যে, বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ও বসতবাড়িতে সাপে কাটার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে বোয়ালখালীতে ২০ জন, পটিয়ায় ১৮ জন, বাঁশখালীতে ১২ জন, রাউজানে ৯ জন, হাটহাজারীতে ৮ জন, সাতকানিয়ায় ৬ জন, আনোয়ারায় ৫ জন, চন্দনাইশে ৩ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন এবং লোহাগাড়ায় ২ জন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়, বসতবাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসছে, ফলে সাপের কামড়ের ঝুঁকি বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার করা, পানিতে নামার আগে লাঠি দিয়ে স্থান পরীক্ষা করা, ঘরবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সাপে কামড়ালে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।