ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আবারও একজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে মোহাম্মদ আলমগীর ওরফে আলম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজানের চারাবটতল বাজারসংলগ্ন কায়কোবাদ জামে মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আলমগীর আলম পূর্ব রাউজান সিদ্দিক চৌধুরীর পাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্থানীয় যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর জেল থেকে ছাড়া পান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যুবদল কর্মী আলমগীর মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় কায়কোবাদ জামে মসজিদের কবরস্থানে লুকিয়ে থাকা আটজন অস্ত্রধারী আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় আলমগীর আলমের মোটরসাইকেলের পেছনে একটি অটোরিকশায় তার স্ত্রী ও সন্তান ছিলেন। এই হামলায় আলমগীর আলমের আত্মীয় মুহাম্মদ রিয়াদও (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আলমগীরের শরীরে ৫টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। অস্ত্রধারীরা তাকে হত্যার পর রাঙামাটি সড়ক দিয়ে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পুলিশ এখনও তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি।

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আলমগীর আগে অপরাধ জগতের সাথে যুক্ত থাকলেও এবার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতা কিংবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। আমরা এখনো মাঠে আছি।”

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু এ বিষয়ে বলেন, “দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে আছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।”

এদিকে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার এক বিবৃতিতে আলমগীরকে যুবদল কর্মী দাবি করে তাঁর হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নিহত আলমগীর আওয়ামী শাসনামলে দীর্ঘ ১২ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি কারামুক্ত হয়েছিলেন। রাউজানের বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে খুন হলেন তিনি।” বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এবং এর পেছনের খুনের নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর হাটহাজারীতে মোটরসাইকেলে করে আসা অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলিতে মুহাম্মদ আবদুল হাকিম (৫২) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হন। আবদুল হাকিমও রাউজানের বাসিন্দা ছিলেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কারণে রাউজানে অন্তত ১৭ জন খুনের শিকার হয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিউবার জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের স্পিডবোটে অভিযান: গুলিবিনিময়ে ৪ জন নিহত

চট্টগ্রামের রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আবারও একজনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:৩১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে মোহাম্মদ আলমগীর ওরফে আলম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজানের চারাবটতল বাজারসংলগ্ন কায়কোবাদ জামে মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আলমগীর আলম পূর্ব রাউজান সিদ্দিক চৌধুরীর পাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্থানীয় যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর জেল থেকে ছাড়া পান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যুবদল কর্মী আলমগীর মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় কায়কোবাদ জামে মসজিদের কবরস্থানে লুকিয়ে থাকা আটজন অস্ত্রধারী আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় আলমগীর আলমের মোটরসাইকেলের পেছনে একটি অটোরিকশায় তার স্ত্রী ও সন্তান ছিলেন। এই হামলায় আলমগীর আলমের আত্মীয় মুহাম্মদ রিয়াদও (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আলমগীরের শরীরে ৫টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। অস্ত্রধারীরা তাকে হত্যার পর রাঙামাটি সড়ক দিয়ে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পুলিশ এখনও তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি।

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আলমগীর আগে অপরাধ জগতের সাথে যুক্ত থাকলেও এবার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতা কিংবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। আমরা এখনো মাঠে আছি।”

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু এ বিষয়ে বলেন, “দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে আছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।”

এদিকে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার এক বিবৃতিতে আলমগীরকে যুবদল কর্মী দাবি করে তাঁর হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নিহত আলমগীর আওয়ামী শাসনামলে দীর্ঘ ১২ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি কারামুক্ত হয়েছিলেন। রাউজানের বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে খুন হলেন তিনি।” বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এবং এর পেছনের খুনের নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর হাটহাজারীতে মোটরসাইকেলে করে আসা অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলিতে মুহাম্মদ আবদুল হাকিম (৫২) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হন। আবদুল হাকিমও রাউজানের বাসিন্দা ছিলেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কারণে রাউজানে অন্তত ১৭ জন খুনের শিকার হয়েছেন।