মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের জন্য ভিসা সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের ওয়াশিংটন সফরকে সরকার অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ বলে দাবি করলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা (Immigrant Visa) প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া বি-১ ও বি-২ (ভ্রমণ ও ব্যবসা) ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলারের ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত প্রথা চালু করা হয়েছে।
২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তগুলোর মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন সরকারি কল্যাণভাতার (Public Charge) ওপর বিদেশি নাগরিকদের নির্ভরশীলতা কমানো এবং ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে থেকে যাওয়া রোধ করা। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকার আসার আগে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পক্ষে এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিবাসী ভিসা স্থগিত ও এর কারণ
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশের অভিবাসীরা মার্কিন জনগণের কল্যাণভাতা বা ‘ওয়েলফেয়ার বেনিফিট’ অগ্রহণযোগ্য হারে গ্রহণ করে, তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান, রাশিয়া ও ইরানসহ ৭৫টি দেশ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, নতুন অভিবাসীরা যাতে মার্কিন জনগণের সম্পদে ভাগ না বসায়, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবিরের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ বৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশই কোনো না কোনো সরকারি ভাতা গ্রহণ করেন, যা এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হতে পারে।
‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত পদ্ধতি
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময় তাদের জন্য জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এই বন্ডের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা) হতে পারে।
শর্ত: ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা সঠিক সময়ে দেশ ত্যাগ করবেন, তারা এই অর্থ ফেরত পাবেন।
নিবন্ধন: আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘pay.gov’-এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তাবলীতে সম্মত হতে হবে।
প্রবেশপথ: বন্ডধারী ব্যক্তিদের জেএফকে (নিউইয়র্ক), বোস্টন লোগান বা ওয়াশিংটন ডুলাস বিমানবন্দরের মতো নির্দিষ্ট পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হবে।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই ভিসা নীতির ফলে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পর্যটকরা চরম বিপাকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিজিএমইএ-র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, আরএমজি সেক্টরের কর্মকর্তাদের জন্য এই জামানত প্রদান ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত কমিয়ে দেবে, যা দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ‘অ্যামচেম’ সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ মনে করেন, এটি বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, কারণ এতে ভিসা জালিয়াতি কমবে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের প্রক্রিয়া সহজতর হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষক মুন্সী ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টার সফরের পরপরই এমন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্কের শীতলতা কাটেনি। তিনি নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বড় কোনো উদ্যোগ না নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























