কাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ এবং জামানতের টাকা ফেরত দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ও বিভাগীয় মামলা মাথায় নিয়েই নতুন করে বড় একটি প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হয়েছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শওকত আলী। সম্প্রতি তাঁকে ‘সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের পিডি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তদন্তাধীন একজন কর্মকর্তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় সওজ অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনা ও নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে।
পুরনো অনিয়মের খতিয়ান
প্রকৌশলী শওকত আলীর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগটি ওঠে তিনি যখন কুমিল্লা সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন (২০২০-২০২২)। ‘নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পে পাঁচটি সেতুর অ্যাপ্রোচসহ বেশ কিছু কাজ বাকি থাকতেই ২০২১ সালের জুন মাসে ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল এবং জামানতের ৫০ শতাংশ অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুমোদন দেন তিনি। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক তদন্তে এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়, যাকে ‘গুরুদণ্ড আরোপযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি
বিভাগীয় মামলা চলমান থাকা অবস্থায় নতুন পদায়নের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলি জানান যে, শাস্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দিতে আইনি বাধা নেই। তবে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন যে, আইনের চেয়ে এখানে ‘নীতি-নৈতিকতা’র বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত চলাকালীন প্রভাবশালী একটি পদের দায়িত্ব দেওয়া হলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে, প্রকৌশলী শওকত আলী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খণ্ডন করে দাবি করেছেন যে, তিনি কোনো বিধি ভঙ্গ করেননি এবং তিনি কেবল ‘ক্রয়কারী কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর মতে, প্রকল্পের মূল দায়িত্ব ছিল প্রকল্প পরিচালক ও ব্যবস্থাপকের। উল্লেখ্য যে, ৩৪৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি পরবর্তীতে ৪৩৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয় এবং অসম্পূর্ণ অবস্থায় অর্থ পরিশোধের তিন বছর পর ২০২৪ সালে কাজ শেষ হয়।
অস্পষ্ট অবস্থান ও নীরবতা
এই বিতর্কিত পদায়নের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা শওকত আলী সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোনের লাইন কেটে দেন। এমন এক সময়ে এই পদায়ন ঘটল যখন বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























