ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২২ দিনের অপেক্ষা শেষ, জালে ইলিশের স্বপ্ন নিয়ে মধ্যরাতে নদীতে নামছেন চাঁদপুরের জেলেরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

জীবনের চাকা পুনরায় সচল করতে ২২ দিন পর আজ মধ্যরাতে নদীতে নামার অধীর অপেক্ষায় চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে। তাদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞা শেষে এবার রূপালি ইলিশে ভরে উঠবে তাদের জাল, আর মুখে ফিরবে হাসি। ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখার জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে গত ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এই বিরতির পর আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে জেলেরা নদীতে নামবেন।

শেষ মুহূর্তে অনেকে নৌকা মেরামত করছেন, কেউবা পুরোনো জাল সেলাই করে নিচ্ছেন নতুন করে। মুখে আনন্দের অনুভূতি থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া নিয়ে তাদের মনে বড় দুশ্চিন্তা। তাদের দাবি, এবছর ভরা মৌসুমেও নদীতে ইলিশের তেমন দেখা মেলেনি, আর এখন মৌসুম প্রায় শেষ। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেলে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নিবন্ধিত ৪৫ হাজার ৬১৫ জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হলেও তা অপ্রতুল ছিল। মেঘনা পাড়ের জেলে মজিব দেওয়ান বলেন, “কিছু অসাধু জেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকার করায় ইলিশের প্রজনন হুমকির মুখে পড়েছে। আল্লাহ কবুল করলে ইলিশ পাবো, না হলে ঋণের বোঝা আরও ভারী হবে।” সফরমালী এলাকার জেলে জাকির হোসেনও ইলিশ না পাওয়ার আশঙ্কায় সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানান, অন্য বছরের তুলনায় এই বছর পদ্মা-মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অনেক কঠোর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, যাতে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে। এই বছর চারশোর মতো অভিযান চালানো হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে তাদের উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা মনে করি, চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানটি সফল হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও চাঁদপুরে সেই তুলনায় তেমন ঘটনা ঘটেনি। এই বছর মা ইলিশ যেভাবে ডিম ছেড়েছে, সেই ডিমগুলো থেকে উৎপন্ন জাটকা যদি সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে, তবে ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

২২ দিনের অপেক্ষা শেষ, জালে ইলিশের স্বপ্ন নিয়ে মধ্যরাতে নদীতে নামছেন চাঁদপুরের জেলেরা

আপডেট সময় : ১০:৪২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

জীবনের চাকা পুনরায় সচল করতে ২২ দিন পর আজ মধ্যরাতে নদীতে নামার অধীর অপেক্ষায় চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে। তাদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞা শেষে এবার রূপালি ইলিশে ভরে উঠবে তাদের জাল, আর মুখে ফিরবে হাসি। ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখার জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে গত ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এই বিরতির পর আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে জেলেরা নদীতে নামবেন।

শেষ মুহূর্তে অনেকে নৌকা মেরামত করছেন, কেউবা পুরোনো জাল সেলাই করে নিচ্ছেন নতুন করে। মুখে আনন্দের অনুভূতি থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া নিয়ে তাদের মনে বড় দুশ্চিন্তা। তাদের দাবি, এবছর ভরা মৌসুমেও নদীতে ইলিশের তেমন দেখা মেলেনি, আর এখন মৌসুম প্রায় শেষ। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেলে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নিবন্ধিত ৪৫ হাজার ৬১৫ জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হলেও তা অপ্রতুল ছিল। মেঘনা পাড়ের জেলে মজিব দেওয়ান বলেন, “কিছু অসাধু জেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকার করায় ইলিশের প্রজনন হুমকির মুখে পড়েছে। আল্লাহ কবুল করলে ইলিশ পাবো, না হলে ঋণের বোঝা আরও ভারী হবে।” সফরমালী এলাকার জেলে জাকির হোসেনও ইলিশ না পাওয়ার আশঙ্কায় সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানান, অন্য বছরের তুলনায় এই বছর পদ্মা-মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অনেক কঠোর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, যাতে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে। এই বছর চারশোর মতো অভিযান চালানো হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে তাদের উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা মনে করি, চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানটি সফল হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও চাঁদপুরে সেই তুলনায় তেমন ঘটনা ঘটেনি। এই বছর মা ইলিশ যেভাবে ডিম ছেড়েছে, সেই ডিমগুলো থেকে উৎপন্ন জাটকা যদি সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে, তবে ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।”