কক্সবাজারের উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক বহুতল ভবন। উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং পূর্বপাড়া এলাকার ‘স্বর্ণ পাহাড়’ নামক স্থানে বনের জমি দখল করে এই নির্মাণযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুপালং এলাকার মৃত রোহিঙ্গা ইলিয়াস ওরফে রোহিঙ্গা ইলিয়াসের দুই ছেলে মোহাম্মদ হারুন ও মোহাম্মদ মামুন বনবিভাগের জায়গা দখল করে সেখানে পাঁচতলা ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেছেন। বর্তমানে ভবনটির অন্তত তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাব এবং কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস করে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে, যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ১৯২৭ সালের বন আইন এবং ১৯৯৫ সালের পরিবেশ আইন অনুযায়ী বনভূমি দখল ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব ক্ষেত্রে জেল, জরিমানা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের স্পষ্ট বিধান থাকলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা তোয়াক্কা করছে না।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উখিয়া রেঞ্জের বেশ কিছু এলাকা জবরদখলমুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উখিয়া সদর বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, ইতোপূর্বেও এই ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম শাহিন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বনভূমি রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























