ভারত মহাসাগরে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন ২৩৮ জন ইরানি নাবিক। শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে তাদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় একটি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই নাবিকরা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় আটকা পড়েছিলেন।
শ্রীলঙ্কার উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরুনা জয়াসেকারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৩২ জন নাবিক যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’র এবং বাকি ২০৬ জন ‘আইআরআইএস বুশেহর’ জাহাজের ক্রু। মঙ্গলবার রাতে একটি বিশেষ চার্টার্ড বিমানে করে তারা তেহরানের উদ্দেশ্যে কলম্বো ত্যাগ করেন। তবে ‘আইআরআইএস বুশেহর’ জাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এখনো ১৫ জন নাবিক শ্রীলঙ্কার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিনকোমালি বন্দরে অবস্থান করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন হামলায় ‘আইআরআইএস দেনা’ জাহাজটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ১০৪ জন নাবিক প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ ইতিমধ্যে উদ্ধার করে ইরানে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জানিয়েছেন, ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশন অনুযায়ী মানবিক দিক বিবেচনা করে তার দেশ ইরানি নাবিকদের আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছে। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে লঙ্কান সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমেই এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আলিরেজা দিলখোশ।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, উত্তেজনার মাঝেও মানবিক কারণে নাবিকদের আশ্রয় ও ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করেছে। একই সময়ে অন্য একটি ইরানি জাহাজ ভারতের কোচি বন্দরে আশ্রয় নিলে সেখান থেকেও বেশ কিছু ক্রু নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















