ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

মিরপুর গার্লস আইডিয়ালের বরখাস্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অপপ্রচারের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের বরখাস্তকৃত সহকারী শিক্ষক (সংগীত) বিপাশা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সহকর্মীদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত বছরের মে মাসে নানা অভিযোগের ভিত্তিতে বিপাশা ইয়াসমিনকে বিধি মোতাবেক বরখাস্ত করা হয়। তবে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠান ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সচিবদের নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূতভাবে বিপাশা ইয়াসমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগের পর থেকেই তিনি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করা, কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়া এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মিথ্যা অভিযোগ আনেন, যা তিনটি পৃথক তদন্তে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে প্রতিষ্ঠানের ১৪ জন পুরুষ শিক্ষক ওই সময় মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ভোল পাল্টে নিজেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ১৯ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সহকর্মীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিপাশা ইয়াসমিন শিক্ষা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে প্রধান শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধের অপচেষ্টাও চালিয়েছেন। তবে উচ্চ আদালত ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মূলত শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমিদউল্লা কাসেমী, প্রভাতি শাখার ইনচার্জ সুয়ারা সুলতানা ও দিবা শাখার ইনচার্জ জেসমিন আহমেদসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ওই শিক্ষকের চলমান অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

মিরপুর গার্লস আইডিয়ালের বরখাস্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অপপ্রচারের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের বরখাস্তকৃত সহকারী শিক্ষক (সংগীত) বিপাশা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সহকর্মীদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত বছরের মে মাসে নানা অভিযোগের ভিত্তিতে বিপাশা ইয়াসমিনকে বিধি মোতাবেক বরখাস্ত করা হয়। তবে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠান ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সচিবদের নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূতভাবে বিপাশা ইয়াসমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগের পর থেকেই তিনি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করা, কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়া এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মিথ্যা অভিযোগ আনেন, যা তিনটি পৃথক তদন্তে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে প্রতিষ্ঠানের ১৪ জন পুরুষ শিক্ষক ওই সময় মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ভোল পাল্টে নিজেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ১৯ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সহকর্মীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিপাশা ইয়াসমিন শিক্ষা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে প্রধান শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধের অপচেষ্টাও চালিয়েছেন। তবে উচ্চ আদালত ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মূলত শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমিদউল্লা কাসেমী, প্রভাতি শাখার ইনচার্জ সুয়ারা সুলতানা ও দিবা শাখার ইনচার্জ জেসমিন আহমেদসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ওই শিক্ষকের চলমান অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।