ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

পবিত্র শবে মেরাজ: মহিমান্বিত রজনীতে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের অনন্য স্মারক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করছেন পবিত্র শবে মেরাজ। ইসলামিক বিশ্বাস অনুযায়ী, রজব মাসের ২৭তম এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অলৌকিকভাবে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় রজনী।

আরবি ‘মেরাজ’ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা আরোহণ, আর ফার্সি ‘শব’ মানে রাত। এই দুই শব্দের সমন্বয়ে ‘শবে মেরাজ’ বলতে বোঝায় ঊর্ধ্বগমনের রাত। ইসলামিক ইতিহাস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবকে (সা.) প্রথমে মক্কার কাবা শরীফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত নিয়ে যান, যা ‘ইসরা’ নামে পরিচিত। এরপর সেখান থেকে তিনি সপ্তাকাশ ভেদ করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত ভ্রমণ করেন এবং সবশেষে আরশে আজিমে আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন। এই মহিমান্বিত যাত্রাকে ‘মেরাজ’ বলা হয়।

শবে মেরাজ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনাই নয়, এটি ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ও শিক্ষণীয় অধ্যায়। এই রাতেই মহানবী (সা.) উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে আসেন, যা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এটি মুসলমানদের আধ্যাত্মিক উন্নতি, খোদাভীতি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রতীক। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠী এই দিনটিকে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে এবং এর মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে লালন করে।

কোটি কোটি মুসলমানের বিশ্বাস অনুযায়ী, মেরাজের এই মহাযাত্রা সজাগ ও সশরীরে সংঘটিত হয়েছিল, যা মহানবী (সা.)-এর নবুয়তের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। যদিও এই অলৌকিক ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্নমত পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম আলেম ও সাধারণ বিশ্বাসীদের মতে, এটি কোনো স্বপ্ন বা আত্মিক ভ্রমণ ছিল না, বরং তা ছিল দৈহিক ও আত্মিক উভয় প্রকারের এক বাস্তব ও অলৌকিক ভ্রমণ। এটি বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও কুদরতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাতে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং দোয়া-মোনাজাত করে থাকেন। বিভিন্ন মসজিদে ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে শবে মেরাজের তাৎপর্য ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই রাতে মুসলমানরা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, যা তাদের আত্মিক পরিশুদ্ধি ও নৈকট্য লাভে সহায়তা করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

পবিত্র শবে মেরাজ: মহিমান্বিত রজনীতে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের অনন্য স্মারক

আপডেট সময় : ১১:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করছেন পবিত্র শবে মেরাজ। ইসলামিক বিশ্বাস অনুযায়ী, রজব মাসের ২৭তম এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অলৌকিকভাবে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় রজনী।

আরবি ‘মেরাজ’ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা আরোহণ, আর ফার্সি ‘শব’ মানে রাত। এই দুই শব্দের সমন্বয়ে ‘শবে মেরাজ’ বলতে বোঝায় ঊর্ধ্বগমনের রাত। ইসলামিক ইতিহাস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবকে (সা.) প্রথমে মক্কার কাবা শরীফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত নিয়ে যান, যা ‘ইসরা’ নামে পরিচিত। এরপর সেখান থেকে তিনি সপ্তাকাশ ভেদ করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত ভ্রমণ করেন এবং সবশেষে আরশে আজিমে আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন। এই মহিমান্বিত যাত্রাকে ‘মেরাজ’ বলা হয়।

শবে মেরাজ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনাই নয়, এটি ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ও শিক্ষণীয় অধ্যায়। এই রাতেই মহানবী (সা.) উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে আসেন, যা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এটি মুসলমানদের আধ্যাত্মিক উন্নতি, খোদাভীতি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রতীক। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠী এই দিনটিকে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে এবং এর মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে লালন করে।

কোটি কোটি মুসলমানের বিশ্বাস অনুযায়ী, মেরাজের এই মহাযাত্রা সজাগ ও সশরীরে সংঘটিত হয়েছিল, যা মহানবী (সা.)-এর নবুয়তের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। যদিও এই অলৌকিক ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্নমত পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম আলেম ও সাধারণ বিশ্বাসীদের মতে, এটি কোনো স্বপ্ন বা আত্মিক ভ্রমণ ছিল না, বরং তা ছিল দৈহিক ও আত্মিক উভয় প্রকারের এক বাস্তব ও অলৌকিক ভ্রমণ। এটি বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও কুদরতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাতে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং দোয়া-মোনাজাত করে থাকেন। বিভিন্ন মসজিদে ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে শবে মেরাজের তাৎপর্য ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই রাতে মুসলমানরা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, যা তাদের আত্মিক পরিশুদ্ধি ও নৈকট্য লাভে সহায়তা করে।