ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্য: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও নারীর মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের নিকাব-সংক্রান্ত একটি মন্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তিনি নিকাবকে ‘মুসলমানদের পোশাক নয়’ এবং ‘ইহুদি নারীদের বেশ্যাবৃত্তি বা নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত’ বলে আখ্যায়িত করায় একদিকে যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে, তেমনি নারীর মর্যাদা ও পোশাকের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই মন্তব্যকে কেবল একটি পোশাকের আলোচনা হিসেবে না দেখে, এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়, নারীর সম্মান এবং সামাজিক সৌজন্যবোধের গভীর সংযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সাধারণভাবে, একজন নারী কী ধরনের পোশাক পরিধান করবেন, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও অধিকারের বিষয়। এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই ‘অনৈতিকতা’ বা ‘অপরাধ’-এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া একটি সভ্য সমাজের ভাষা হতে পারে না। সমালোচকরা বলছেন, অপরাধের দায় ব্যক্তির, পোশাকের নয়। কোনো নারী নিকাব পরলেই তাকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা মানে লক্ষ কোটি পর্দানশিন ও সতীসাধ্বী নারীকে অবমূল্যায়ন করা। পোশাককে কেন্দ্র করে নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা নারীর সম্মানবোধকে ক্ষুণ্ন করে এবং সমাজে বিভেদ তৈরি করে।

ইসলামে নিকাবের অবস্থান:
মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর নিকাবকে ‘মুসলমানদের ড্রেস নয়’ বলে দাবি করলেও, ইসলামের প্রাথমিক সূত্রগুলোতে এর ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সহিহ বুখারির ১৮৩৮ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত আছে, “ইহরামরত অবস্থায় নারীরা মুখে নিকাব এবং হাতে হাতমোজা পরিধান করবে না।” এই হাদিসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয় যে, রাসুল (সা.)-এর সময়ে নিকাব ও হাতমোজা মুসলিম সমাজে পরিচিত ও ব্যবহৃত ছিল। যদি এই পোশাকগুলো সমাজে প্রচলিত না থাকত, তাহলে ইহরামের বিশেষ অবস্থায় সেগুলোর নিষেধাজ্ঞা আসার প্রশ্নই উঠত না। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) সহ অনেক সাহাবিয়াদের পর্দা ও সংযমের বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণনা রয়েছে, যা ইসলামি জীবনবোধে শালীনতার সংস্কৃতি হিসেবে পর্দার গুরুত্ব তুলে ধরে। তাই নিকাবকে অসম্মান করার মাধ্যমে শুধু ইতিহাস-বিচ্ছিন্নতাই নয়, বহু মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতেও অপ্রয়োজনীয় আঘাত করা হয়।

নিকাব নিয়ে মতভেদ ও সম্মান রক্ষার প্রয়োজনীয়তা:
ইসলামি ফিকহশাস্ত্র অনুযায়ী নিকাব ফরজ কি না, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ একে বাধ্যতামূলক বলেন, কেউ উত্তম বা মুস্তাহাব বলেন, আবার কেউ সমাজ ও পরিস্থিতিভেদে এর ব্যাখ্যা দেন। তবে এই মতভেদ কোনোভাবেই পর্দানশিন নারীকে অপমান বা বিদ্রুপ করার সুযোগ তৈরি করে না। ইসলামি জ্ঞানধারায় বহু প্রসিদ্ধ আলেম নিকাবকে অধিক সংযমপূর্ণ ও নিরাপদ পথ হিসেবে দেখেছেন। কোনো নারী যদি তার তাকওয়া, সততা, নিরাপত্তা-চেতনা কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ হিসেবে নিকাব বেছে নেন, তবে তার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা একজন সুশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য।

‘ইহুদি নারী’ প্রসঙ্গ ও অশোভন সাধারণীকরণ:
বিএনপি নেতার মন্তব্যের সবচেয়ে আপত্তিকর দিক হলো, তিনি নিকাবকে ‘বেশ্যাবৃত্তি’ বা ‘নিষিদ্ধ কার্যক্রম’-এর সঙ্গে যুক্ত করে ইহুদি নারীদের প্রসঙ্গ টেনেছেন। এটি নিছক ভুল তথ্য নয়, বরং সামাজিকভাবে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে নিকাব পরিধানকারী নারীদের প্রতি একটি অপমানজনক ও সন্দেহজনক মানসিকতা তৈরি হতে পারে। বাস্তবে, ইতিহাসের কোথাও ইহুদি নারীদের অন্যায় কর্মের জন্য নিকাব পরার কথা বর্ণিত হয়নি। সমালোচকরা বলছেন, মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ স্বকপোলকল্পিত এবং বর্তমান সময়ের কোনো অসতী নারীর চিত্রকে তিনি অতীত ইতিহাসে প্রক্ষেপণ করেছেন।

সমাজে অপরাধ ঘটতেই পারে, কিন্তু অপরাধ দমনের জন্য আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকেই অভিযুক্ত করা উচিত। একটি পোশাককে অপরাধের প্রতীক বানিয়ে দেওয়া মানে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা নারীদের গণহারে সন্দেহের আসামি বানিয়ে দেওয়া, যা ঘোর অন্যায় ও অসভ্য মানসিকতার পরিচায়ক। যদি কেউ শাড়ি পরে অপরাধ করে, তাতে শাড়ি অপরাধের পোশাক হয়ে যায় না; কিংবা স্যুট পরে দুর্নীতি করলে স্যুটকে দোষী করা যায় না। ঠিক তেমনি নিকাবকে কোনো কুৎসিত ইঙ্গিতের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যুক্তিসংগত নয়।

নারীর পোশাক: অধিকার ও স্বাধীনতার অংশ:
বাংলাদেশে বহু নারী নিকাব করেন, বহু নারী হিজাব করেন। আবার কেউ শাড়ি-ওড়নায়ও পর্দা রক্ষা করেন। নারীর পোশাক নির্বাচনের অধিকার একান্তভাবে তার নিজের। বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিককে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে, আর পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতা তারই একটি স্বাভাবিক অংশ। কাজেই কারও নিকাব পরাকে ‘অস্বাভাবিক’ বা ‘অপরাধমূলক’ হিসেবে উপস্থাপন করা গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

অনেক নারী নিজেদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি ও আত্মমর্যাদার কারণে নিকাব পরেন। তারা চান, মানুষ তাদের শারীরিক অবয়ব নয়, বরং তাদের ব্যক্তিত্বকে দেখুক। হিজাব বা নিকাব তাদের কাছে কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং পর্দানশিন নারীর কাছে তা সম্মান ও সংযমের প্রতীক। কোরআন ও হাদিসের আলোকে একজন মুসলিম নারী যদি পরিপূর্ণ পর্দা পালনে আগ্রহী হন, তবে তিনি চেহারা ঢেকে রাখাকে তার ধর্মীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখেন।

রাজনীতিতে বিতর্ক থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনায় ধর্মীয় পোশাককে টেনে এনে নারীর সম্মানকে আঘাত করা চরম অসুস্থতার লক্ষণ। মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের বক্তব্যে যে কটূক্তি ও অসম্মানজনক ইঙ্গিত রয়েছে, তা সংশোধন করা দায়িত্বশীলতার দাবি। অন্তত এটুকু বোঝা জরুরি যে, নিকাব কোনো অপরাধের প্রতীক নয়; এটি বহু নারীর বিশ্বাস, শালীনতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার একটি পরিচিত প্রকাশ। সমাজে বহুমত ও বহু চিন্তা থাকলেও, সৌজন্যবোধ ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। নারীর পোশাক নিয়ে উপহাস নয়, বরং নারীর মর্যাদা রক্ষার পক্ষে দাঁড়ানোই সভ্যতার মানদণ্ড।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্য ভ্রমণে নতুন নিয়ম: বুধবার থেকে কার্যকর হচ্ছে ডিজিটাল অনুমতি ‘ইটিএ’

নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্য: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও নারীর মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১০:২৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের নিকাব-সংক্রান্ত একটি মন্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তিনি নিকাবকে ‘মুসলমানদের পোশাক নয়’ এবং ‘ইহুদি নারীদের বেশ্যাবৃত্তি বা নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত’ বলে আখ্যায়িত করায় একদিকে যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে, তেমনি নারীর মর্যাদা ও পোশাকের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই মন্তব্যকে কেবল একটি পোশাকের আলোচনা হিসেবে না দেখে, এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়, নারীর সম্মান এবং সামাজিক সৌজন্যবোধের গভীর সংযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সাধারণভাবে, একজন নারী কী ধরনের পোশাক পরিধান করবেন, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও অধিকারের বিষয়। এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই ‘অনৈতিকতা’ বা ‘অপরাধ’-এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া একটি সভ্য সমাজের ভাষা হতে পারে না। সমালোচকরা বলছেন, অপরাধের দায় ব্যক্তির, পোশাকের নয়। কোনো নারী নিকাব পরলেই তাকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা মানে লক্ষ কোটি পর্দানশিন ও সতীসাধ্বী নারীকে অবমূল্যায়ন করা। পোশাককে কেন্দ্র করে নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা নারীর সম্মানবোধকে ক্ষুণ্ন করে এবং সমাজে বিভেদ তৈরি করে।

ইসলামে নিকাবের অবস্থান:
মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর নিকাবকে ‘মুসলমানদের ড্রেস নয়’ বলে দাবি করলেও, ইসলামের প্রাথমিক সূত্রগুলোতে এর ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সহিহ বুখারির ১৮৩৮ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত আছে, “ইহরামরত অবস্থায় নারীরা মুখে নিকাব এবং হাতে হাতমোজা পরিধান করবে না।” এই হাদিসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয় যে, রাসুল (সা.)-এর সময়ে নিকাব ও হাতমোজা মুসলিম সমাজে পরিচিত ও ব্যবহৃত ছিল। যদি এই পোশাকগুলো সমাজে প্রচলিত না থাকত, তাহলে ইহরামের বিশেষ অবস্থায় সেগুলোর নিষেধাজ্ঞা আসার প্রশ্নই উঠত না। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) সহ অনেক সাহাবিয়াদের পর্দা ও সংযমের বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণনা রয়েছে, যা ইসলামি জীবনবোধে শালীনতার সংস্কৃতি হিসেবে পর্দার গুরুত্ব তুলে ধরে। তাই নিকাবকে অসম্মান করার মাধ্যমে শুধু ইতিহাস-বিচ্ছিন্নতাই নয়, বহু মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতেও অপ্রয়োজনীয় আঘাত করা হয়।

নিকাব নিয়ে মতভেদ ও সম্মান রক্ষার প্রয়োজনীয়তা:
ইসলামি ফিকহশাস্ত্র অনুযায়ী নিকাব ফরজ কি না, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ একে বাধ্যতামূলক বলেন, কেউ উত্তম বা মুস্তাহাব বলেন, আবার কেউ সমাজ ও পরিস্থিতিভেদে এর ব্যাখ্যা দেন। তবে এই মতভেদ কোনোভাবেই পর্দানশিন নারীকে অপমান বা বিদ্রুপ করার সুযোগ তৈরি করে না। ইসলামি জ্ঞানধারায় বহু প্রসিদ্ধ আলেম নিকাবকে অধিক সংযমপূর্ণ ও নিরাপদ পথ হিসেবে দেখেছেন। কোনো নারী যদি তার তাকওয়া, সততা, নিরাপত্তা-চেতনা কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ হিসেবে নিকাব বেছে নেন, তবে তার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা একজন সুশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য।

‘ইহুদি নারী’ প্রসঙ্গ ও অশোভন সাধারণীকরণ:
বিএনপি নেতার মন্তব্যের সবচেয়ে আপত্তিকর দিক হলো, তিনি নিকাবকে ‘বেশ্যাবৃত্তি’ বা ‘নিষিদ্ধ কার্যক্রম’-এর সঙ্গে যুক্ত করে ইহুদি নারীদের প্রসঙ্গ টেনেছেন। এটি নিছক ভুল তথ্য নয়, বরং সামাজিকভাবে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে নিকাব পরিধানকারী নারীদের প্রতি একটি অপমানজনক ও সন্দেহজনক মানসিকতা তৈরি হতে পারে। বাস্তবে, ইতিহাসের কোথাও ইহুদি নারীদের অন্যায় কর্মের জন্য নিকাব পরার কথা বর্ণিত হয়নি। সমালোচকরা বলছেন, মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ স্বকপোলকল্পিত এবং বর্তমান সময়ের কোনো অসতী নারীর চিত্রকে তিনি অতীত ইতিহাসে প্রক্ষেপণ করেছেন।

সমাজে অপরাধ ঘটতেই পারে, কিন্তু অপরাধ দমনের জন্য আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকেই অভিযুক্ত করা উচিত। একটি পোশাককে অপরাধের প্রতীক বানিয়ে দেওয়া মানে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা নারীদের গণহারে সন্দেহের আসামি বানিয়ে দেওয়া, যা ঘোর অন্যায় ও অসভ্য মানসিকতার পরিচায়ক। যদি কেউ শাড়ি পরে অপরাধ করে, তাতে শাড়ি অপরাধের পোশাক হয়ে যায় না; কিংবা স্যুট পরে দুর্নীতি করলে স্যুটকে দোষী করা যায় না। ঠিক তেমনি নিকাবকে কোনো কুৎসিত ইঙ্গিতের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যুক্তিসংগত নয়।

নারীর পোশাক: অধিকার ও স্বাধীনতার অংশ:
বাংলাদেশে বহু নারী নিকাব করেন, বহু নারী হিজাব করেন। আবার কেউ শাড়ি-ওড়নায়ও পর্দা রক্ষা করেন। নারীর পোশাক নির্বাচনের অধিকার একান্তভাবে তার নিজের। বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিককে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে, আর পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতা তারই একটি স্বাভাবিক অংশ। কাজেই কারও নিকাব পরাকে ‘অস্বাভাবিক’ বা ‘অপরাধমূলক’ হিসেবে উপস্থাপন করা গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

অনেক নারী নিজেদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি ও আত্মমর্যাদার কারণে নিকাব পরেন। তারা চান, মানুষ তাদের শারীরিক অবয়ব নয়, বরং তাদের ব্যক্তিত্বকে দেখুক। হিজাব বা নিকাব তাদের কাছে কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং পর্দানশিন নারীর কাছে তা সম্মান ও সংযমের প্রতীক। কোরআন ও হাদিসের আলোকে একজন মুসলিম নারী যদি পরিপূর্ণ পর্দা পালনে আগ্রহী হন, তবে তিনি চেহারা ঢেকে রাখাকে তার ধর্মীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখেন।

রাজনীতিতে বিতর্ক থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনায় ধর্মীয় পোশাককে টেনে এনে নারীর সম্মানকে আঘাত করা চরম অসুস্থতার লক্ষণ। মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের বক্তব্যে যে কটূক্তি ও অসম্মানজনক ইঙ্গিত রয়েছে, তা সংশোধন করা দায়িত্বশীলতার দাবি। অন্তত এটুকু বোঝা জরুরি যে, নিকাব কোনো অপরাধের প্রতীক নয়; এটি বহু নারীর বিশ্বাস, শালীনতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার একটি পরিচিত প্রকাশ। সমাজে বহুমত ও বহু চিন্তা থাকলেও, সৌজন্যবোধ ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। নারীর পোশাক নিয়ে উপহাস নয়, বরং নারীর মর্যাদা রক্ষার পক্ষে দাঁড়ানোই সভ্যতার মানদণ্ড।