ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারে গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ অন্তত ১৫, রণক্ষেত্র কলাতলী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা কলাতলীতে একটি নবনির্মিত গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘এন আলম’ ফিলিং স্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকেই ওই গ্যাস স্টেশনে লিকেজ শুরু হয়েছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে এক কিলোমিটার এলাকা আচ্ছন্ন করে ফেলে। তীব্র গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও অস্বস্তি শুরু হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং স্টেশনের কয়েকটি পয়েন্টে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের স্থাপনাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের পর দগ্ধ ১৫ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ আটজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ছয়জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময় গ্যাস লিকেজ হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে থাকায় বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়া চললেও পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে কলাতলী সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম ও চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের মতো জনবহুল এলাকা থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস লিকেজ চললেও কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এই গাফিলতির কারণেই জনবহুল এলাকায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করছেন। বর্তমানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদর্শিক মিল থাকলেও রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত কওমি অঙ্গন

কক্সবাজারে গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ অন্তত ১৫, রণক্ষেত্র কলাতলী

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা কলাতলীতে একটি নবনির্মিত গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘এন আলম’ ফিলিং স্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকেই ওই গ্যাস স্টেশনে লিকেজ শুরু হয়েছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে এক কিলোমিটার এলাকা আচ্ছন্ন করে ফেলে। তীব্র গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও অস্বস্তি শুরু হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং স্টেশনের কয়েকটি পয়েন্টে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের স্থাপনাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের পর দগ্ধ ১৫ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ আটজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ছয়জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময় গ্যাস লিকেজ হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে থাকায় বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়া চললেও পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে কলাতলী সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম ও চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের মতো জনবহুল এলাকা থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস লিকেজ চললেও কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এই গাফিলতির কারণেই জনবহুল এলাকায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করছেন। বর্তমানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে।