ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে চীনের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইরান। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বেইজিংয়ের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ‘সিএম-৩০২’ সুপারসনিক জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে তেহরান। অত্যন্ত নিচু দিয়ে এবং তীব্র গতিতে উড়ে গিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সংজ্ঞাই পাল্টে দিতে পারে এবং বিশেষ করে মার্কিন রণতরীগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘাতের পর এই প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনা গতি পায়। চুক্তির চূড়ান্ত আলোচনার জন্য ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরাই সম্প্রতি বেইজিং সফর করেছেন। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে চীনের পক্ষ থেকে ইরানে হস্তান্তরিত এযাবৎকালের সবচেয়ে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি। এছাড়া ইরান চীনের কাছ থেকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অ্যান্টি-স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান এই পদক্ষেপকে তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে।

ইরানের এই সামরিক প্রস্তুতির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলও তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। সম্প্রতি ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অত্যাধুনিক ‘এফ-২২ র‍্যাপ্টর’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানগুলো রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত হামলা চালাতে এবং আকাশসীমায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সক্ষম। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার মোকাবিলায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এই সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ এখনো হাতের নাগালে রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জেনেভায় দু’দেশের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। আরাগচি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে যাবে না এবং তারা কেবল শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে চীনের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সংগ্রহ এবং অন্যদিকে ইসরাইলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক জটিল মোড় নিয়েছে। এই ত্রিমুখী সামরিক ও কূটনৈতিক লড়াই এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

আপডেট সময় : ০৬:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে চীনের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইরান। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বেইজিংয়ের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ‘সিএম-৩০২’ সুপারসনিক জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে তেহরান। অত্যন্ত নিচু দিয়ে এবং তীব্র গতিতে উড়ে গিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সংজ্ঞাই পাল্টে দিতে পারে এবং বিশেষ করে মার্কিন রণতরীগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘাতের পর এই প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনা গতি পায়। চুক্তির চূড়ান্ত আলোচনার জন্য ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরাই সম্প্রতি বেইজিং সফর করেছেন। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে চীনের পক্ষ থেকে ইরানে হস্তান্তরিত এযাবৎকালের সবচেয়ে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি। এছাড়া ইরান চীনের কাছ থেকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অ্যান্টি-স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান এই পদক্ষেপকে তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে।

ইরানের এই সামরিক প্রস্তুতির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলও তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। সম্প্রতি ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অত্যাধুনিক ‘এফ-২২ র‍্যাপ্টর’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানগুলো রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত হামলা চালাতে এবং আকাশসীমায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সক্ষম। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার মোকাবিলায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এই সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ এখনো হাতের নাগালে রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জেনেভায় দু’দেশের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। আরাগচি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে যাবে না এবং তারা কেবল শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে চীনের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সংগ্রহ এবং অন্যদিকে ইসরাইলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক জটিল মোড় নিয়েছে। এই ত্রিমুখী সামরিক ও কূটনৈতিক লড়াই এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।