সিলেটের ওসমানীনগরে নির্বাচনী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। স্থানীয় জনতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তাজপুর বাজারে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনকালীন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান। আন্দোলনকারীরা বলেন, একটি বিশেষ পক্ষ এই দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে এবং আন্দোলন দমাতে তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
বিক্ষুব্ধ জনতা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেন। মানববন্ধন থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ইউএনও মুনমুন নাহার আশার অপসারণ এবং তাঁর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন বক্তারা।
কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বিএনপি নেতা সৈয়দ এনায়েত হোসেন বলেন, “শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। প্রশাসনের কেউ যদি কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা সরাসরি সরকারের নীতির পরিপন্থী হবে।”
উক্ত মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়কের একপাশে যানবাহন চলাচল কিছুটা ধীরগতির হলেও আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
রিপোর্টারের নাম 
























