২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দেশের বিভিন্ন থানা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই আবেদনটি দায়ের করেন।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাবের মহাপরিচালককে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা বাহিনীর দপ্তর থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র বর্তমানে দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আবেদনকারী আইনজীবী যুক্তি দেখিয়েছেন, অবাধে বিচরণ করা এসব অবৈধ অস্ত্রের কারণে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন হুমকির সম্মুখীন। সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহীদ শরীফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি এই উদ্বেগকে আরও ঘনীভূত করেছে। রিটে দাবি করা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা সহিংস ও রক্তক্ষয়ী হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আবেদনে বলা হয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। এমতাবস্থায়, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই রিট পিটিশনে।
রিপোর্টারের নাম 






















