ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০ জানুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের (আর্গুমেন্ট) দিন ধার্য করা হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

বুধবার (তারিখ ছাড়াই প্রসঙ্গের খাতিরে) মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এমএইচ তামীম। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন সুজাদ মিয়া।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৩০ জুন আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

এই মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ অনেকে পলাতক থাকলেও বর্তমানে ৬ জন কারাবন্দি রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার দপ্তরের সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। নিরস্ত্র সাঈদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই হত্যাকাণ্ড ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলাটি রায়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু, শোকের ছায়া বাঁশখালীতে

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০ জানুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন

আপডেট সময় : ১০:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের (আর্গুমেন্ট) দিন ধার্য করা হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

বুধবার (তারিখ ছাড়াই প্রসঙ্গের খাতিরে) মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এমএইচ তামীম। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন সুজাদ মিয়া।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৩০ জুন আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

এই মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ অনেকে পলাতক থাকলেও বর্তমানে ৬ জন কারাবন্দি রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার দপ্তরের সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। নিরস্ত্র সাঈদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই হত্যাকাণ্ড ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলাটি রায়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।