প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ জারি ও আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর এক দফা দাবিতে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
রাজধানীর উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার লক্ষ্যে আন্দোলনরত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল মোড় এবং তাঁতীবাজার মোড়ে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। মূলত আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই আইনের খসড়াটি অনুমোদনের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই আজকের এই বিশাল অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে আইনটি হালনাগাদ করা হলেও এর চূড়ান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতির অভিযোগ তুলছেন শিক্ষার্থীরা। গত ডিসেম্বর মাসে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিকালেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানুয়ারি মাসের শুরুতেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন না দেখায় শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, বারবার আশ্বাস দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা সাত কলেজের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আজকের এই অবরোধ কর্মসূচির ফলে সায়েন্সল্যাব থেকে নিউমার্কেট, গাবতলী অভিমুখী টেকনিক্যাল মোড় এবং পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামীকাল ১৫ জানুয়ারির উপদেষ্টা পরিষদের সভায় যদি এই আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন নিশ্চিত না করা হয়, তবে তারা আরও কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তাদের দাবি কেবল একটি নাম পরিবর্তন নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাত কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষা করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং সাধারণ জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























