ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধ: জিয়াউল আহসানের অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে তার আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার ট্রাইব্যুনালের সামনে যুক্তি তুলে ধরেন যে, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছে, তাতে তার কোনো সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেনি। এরপর তারা জিয়াউল আহসানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

পরে প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে বক্তব্য দেন। তিনি আদালতকে জানান, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে (প্রাইমা ফেসি) অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন।

এরও আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটককৃত সজলসহ তিনজন বন্দিকে নিয়ে জিয়াউল আহসান ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হন। ঢাকা বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে পর্যায়ক্রমে বন্দিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেন জিয়াউল।

দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল জিয়াউল আহসানের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হটস্পট’। গভীর রাতে বন্দিদের ট্রলার বা নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো। এই পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোড নামে পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা অভিযান পরিচালনা করা হতো। পূর্বে আটক ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের বনদস্যু সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো। এসব অভিযানে র‍্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে তিনটি অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

মানবতাবিরোধী অপরাধ: জিয়াউল আহসানের অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে তার আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার ট্রাইব্যুনালের সামনে যুক্তি তুলে ধরেন যে, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছে, তাতে তার কোনো সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেনি। এরপর তারা জিয়াউল আহসানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

পরে প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে বক্তব্য দেন। তিনি আদালতকে জানান, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে (প্রাইমা ফেসি) অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন।

এরও আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটককৃত সজলসহ তিনজন বন্দিকে নিয়ে জিয়াউল আহসান ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হন। ঢাকা বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে পর্যায়ক্রমে বন্দিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেন জিয়াউল।

দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল জিয়াউল আহসানের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হটস্পট’। গভীর রাতে বন্দিদের ট্রলার বা নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো। এই পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোড নামে পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা অভিযান পরিচালনা করা হতো। পূর্বে আটক ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের বনদস্যু সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো। এসব অভিযানে র‍্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে তিনটি অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।