ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা মামলা: প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

কালজয়ী চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পুনরায় পিছিয়ে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই নতুন দিন নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় শুনানি শেষে বিচারক পরবর্তী এই তারিখ ঘোষণা করেন।

শুনানিকালে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অবরুদ্ধ করার জন্য একটি আবেদন পেশ করেন। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে তা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলার অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসভবন থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সময় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই এই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানানো হলে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করা হলে ২০০৩ সালে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালে দাখিল করা বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানো হয়। সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ২০১৫ সালে তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন।

সর্বশেষ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে এবং ২০২১ সালে প্রতিবেদন জমা দেয়। ২০২২ সালের জুন মাসে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করার মাধ্যমে মামলাটি পুনরায় সচল হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

সালমান শাহ হত্যা মামলা: প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি

আপডেট সময় : ০৯:৪১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

কালজয়ী চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পুনরায় পিছিয়ে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই নতুন দিন নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় শুনানি শেষে বিচারক পরবর্তী এই তারিখ ঘোষণা করেন।

শুনানিকালে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অবরুদ্ধ করার জন্য একটি আবেদন পেশ করেন। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে তা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলার অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসভবন থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সময় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই এই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানানো হলে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করা হলে ২০০৩ সালে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালে দাখিল করা বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানো হয়। সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ২০১৫ সালে তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন।

সর্বশেষ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে এবং ২০২১ সালে প্রতিবেদন জমা দেয়। ২০২২ সালের জুন মাসে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করার মাধ্যমে মামলাটি পুনরায় সচল হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।