বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে চাকরিতে বয়স জালিয়াতি ও ভুয়া সনদ ব্যবহারের অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর আগামীকাল বুধবার হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চের কার্যতালিকায় বিষয়টি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চাকরিতে যোগদান, বয়স ও সনদ জালিয়াতি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। ‘স্টুডেন্টস ফর সোভারেনটি’ নামক সংগঠনের আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হকের দায়ের করা ওই রিটের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বিপিসিকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছিলেন।
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী গত ৭ জানুয়ারি এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। রিটকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ হাবিব জানান, বুধবার আদালত এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আদেশ প্রদান করবেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক (বিপণন) পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৩ বছর নির্ধারিত থাকলেও মোরশেদ হোসাইন আজাদের প্রকৃত বয়স ছিল ৩৬ বছর ৪ মাস ২১ দিন। নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে চাকরিতে নিয়োগ পান। এছাড়া অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা পূরণে ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করেন তিনি, যা পরবর্তী সময়ে অডিট প্রতিবেদনে ধরা পড়ে। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তৎকালীন সময়ে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাকরিতে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেন এবং ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর যমুনা অয়েল কোম্পানির মোংলা ইন্সটলেশনের তৎকালীন ব্যবস্থাপক এ কে এম জাহিদ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ দুদকে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই সময় অভিযোগটির কোনো সুরাহা হয়নি। বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন রিট আবেদনকারী।
রিপোর্টারের নাম 






















