ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘নিজেকে বাঁচাতে আমাকে ফাঁসিয়েছেন এসআই তরিকুল’: ট্রাইব্যুনালে এএসআই চঞ্চলের সাফাই সাক্ষ্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি ও তিনজনকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, রামপুরা থানার তৎকালীন এসআই তরিকুল ইসলাম ভূইয়া নিজেকে বাঁচাতে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার নাম জড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বিচারিক প্যানেলে এই জবানবন্দি প্রদান করেন বরখাস্ত হওয়া এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে চঞ্চল বলেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। গত ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় বিটিভি ভবনের ৩ নম্বর গেটে এসআই কামারুজ্জামান ও এসআই কামরুল হাসানের সঙ্গে তার ডিউটি ছিল। ওইদিন সকালে থানা থেকে সিসি (কমান্ড সার্টিফিকেট) নিয়ে তারা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান। চঞ্চল দাবি করেন, ঘটনার দিন তার নামে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ইস্যু করা হয়নি এবং তিনি কোনো গুলিও করেননি।

জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯ জুলাই রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থানায় একটি জিডি করেছিলেন, যেখানে কোন পুলিশ সদস্য কত রাউন্ড গুলি খরচ করেছেন তার বিস্তারিত ছিল। সেই তালিকায় চঞ্চলের নাম ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট এসআই তরিকুল ইসলাম ভূইয়া গুলিবর্ষণের বিষয়ে থানায় আরেকটি জিডি করেন। সেখানে ওসির করা পূর্ববর্তী জিডির তথ্য এড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চঞ্চলকে অভিযুক্ত করা হয়। অথচ ওসির জিডিতে এসআই তরিকুল ও এসআই কিবরিয়ার গুলি করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল বলে তিনি আদালতকে জানান।

উল্লেখ্য, এই হত্যা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট পাঁচজন আসামি রয়েছেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন—ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান, এসআই তরিকুল ইসলাম ভূইয়া এবং এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

বর্তমানে এই মামলায় কেবল চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন। তার পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন ও এরশাদুল হক বাবু। মামলায় এ পর্যন্ত ১৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৫ জানুয়ারি মামলাটির যুক্তিতর্ক শুরুর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

‘নিজেকে বাঁচাতে আমাকে ফাঁসিয়েছেন এসআই তরিকুল’: ট্রাইব্যুনালে এএসআই চঞ্চলের সাফাই সাক্ষ্য

আপডেট সময় : ০৮:২২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি ও তিনজনকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, রামপুরা থানার তৎকালীন এসআই তরিকুল ইসলাম ভূইয়া নিজেকে বাঁচাতে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার নাম জড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বিচারিক প্যানেলে এই জবানবন্দি প্রদান করেন বরখাস্ত হওয়া এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে চঞ্চল বলেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। গত ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় বিটিভি ভবনের ৩ নম্বর গেটে এসআই কামারুজ্জামান ও এসআই কামরুল হাসানের সঙ্গে তার ডিউটি ছিল। ওইদিন সকালে থানা থেকে সিসি (কমান্ড সার্টিফিকেট) নিয়ে তারা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান। চঞ্চল দাবি করেন, ঘটনার দিন তার নামে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ইস্যু করা হয়নি এবং তিনি কোনো গুলিও করেননি।

জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯ জুলাই রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থানায় একটি জিডি করেছিলেন, যেখানে কোন পুলিশ সদস্য কত রাউন্ড গুলি খরচ করেছেন তার বিস্তারিত ছিল। সেই তালিকায় চঞ্চলের নাম ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট এসআই তরিকুল ইসলাম ভূইয়া গুলিবর্ষণের বিষয়ে থানায় আরেকটি জিডি করেন। সেখানে ওসির করা পূর্ববর্তী জিডির তথ্য এড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চঞ্চলকে অভিযুক্ত করা হয়। অথচ ওসির জিডিতে এসআই তরিকুল ও এসআই কিবরিয়ার গুলি করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল বলে তিনি আদালতকে জানান।

উল্লেখ্য, এই হত্যা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট পাঁচজন আসামি রয়েছেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন—ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান, এসআই তরিকুল ইসলাম ভূইয়া এবং এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

বর্তমানে এই মামলায় কেবল চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন। তার পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন ও এরশাদুল হক বাবু। মামলায় এ পর্যন্ত ১৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৫ জানুয়ারি মামলাটির যুক্তিতর্ক শুরুর দিন ধার্য করেছেন আদালত।