ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ডের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই বিশদ রায়টি জনসমক্ষে আনা হয়।

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া, রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে দুটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভাগ করে অপরাধের ভয়াবহতা বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগ (উসকানি ও প্ররোচনা): রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ সম্বোধন করে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা ছিল চরম উসকানিমূলক। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের দমনের নির্দেশ এবং প্ররোচনা দেওয়ার বিষয়টিও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এই উসকানির চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে রংপুরে আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। এই অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ (সরাসরি হত্যার নির্দেশ): রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ জুলাই সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এই নির্দেশের ফলে ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এই গুরুতর অপরাধের দায়ে আদালত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

আদালত তার রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, দণ্ডিতদের মালিকানাধীন দেশের অভ্যন্তরে থাকা সকল সম্পদ রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করবে এবং সেই অর্থ জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি বড় আইনি ধাপ সম্পন্ন হলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

জুলাই গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ডের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই বিশদ রায়টি জনসমক্ষে আনা হয়।

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া, রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে দুটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভাগ করে অপরাধের ভয়াবহতা বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগ (উসকানি ও প্ররোচনা): রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ সম্বোধন করে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা ছিল চরম উসকানিমূলক। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের দমনের নির্দেশ এবং প্ররোচনা দেওয়ার বিষয়টিও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এই উসকানির চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে রংপুরে আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। এই অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ (সরাসরি হত্যার নির্দেশ): রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ জুলাই সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এই নির্দেশের ফলে ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এই গুরুতর অপরাধের দায়ে আদালত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

আদালত তার রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, দণ্ডিতদের মালিকানাধীন দেশের অভ্যন্তরে থাকা সকল সম্পদ রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করবে এবং সেই অর্থ জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি বড় আইনি ধাপ সম্পন্ন হলো।