জুলাই বিপ্লব চলাকালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ২৫ জন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম গণমাধ্যমকে জানান, সালমান এফ রহমানসহ নামীয় ২৫ জন ব্যবসায়ী এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হবে।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ জুলাই দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন চলাকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে একদল ব্যবসায়ী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সভায় ব্যবসায়ীরা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন ও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যবসায়ীদের সেই দিনের বক্তব্য ও অবস্থান থেকে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারকে টিকিয়ে রাখার গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সভায় ব্যবসায়ী নেতা আহমেদ আকবর সোবহান আন্দোলন দমনে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি সে সময় মন্তব্য করেছিলেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারফিউ আরও আগে দেওয়া উচিত ছিল। একইসঙ্গে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে অভিযুক্ত করে আন্দোলন দমনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। মূলত ব্যবসায়ীদের এই প্রভাবশালী অংশটি বিপ্লব নস্যাৎ করতে সরকারকে উসকানি ও নৈতিক সমর্থন জুগিয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















