ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গ্রামের শান্তি ফেরাতে টুঙ্গিপাড়ায় সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং করে ঢাল, সড়কি, বল্লম, দা, রামদা এবং লাঠির মতো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা স্বেচ্ছায় নিজেদের অস্ত্র জমা দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি থানায় যোগদানের পর দেখেছি যে সামান্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে মারামারি লেগে যায়। শ্রীড়ামকান্দি, গিমাডাঙ্গা, পাটগাতি ও গওহরডাঙ্গা এলাকায় ৯ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই ঢাল-সড়কি, লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝগড়ায় নেমে পড়ে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি ছোট ভুল বা তর্কের কারণে মানুষ আহত হয়, কখনও কখনও মৃত্যুও ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই সবাই এই দীর্ঘদিনের গ্রাম্য মারামারির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুক।”

ওসি আরও জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। হাতে অস্ত্র থাকলে মানুষ উত্তেজিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু অস্ত্র না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে সংযত রাখা সম্ভব হয়। তাই তিনি দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে প্রত্যেকের অস্ত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান। জমা পড়া অস্ত্রগুলো পরে বিধি মোতাবেক ধ্বংস করা হবে।

পাটগাতি গ্রামের হান্নান শেখ বলেন, “আগে সামান্য বিষয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে ঢাল-সড়কি নিয়ে মারামারি হতো। এখন পুলিশ এসব অস্ত্র জমা নিচ্ছে, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।”

পাটগাতি ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রুঙ্গু খান বলেন, “থানার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রচার চালাচ্ছি। যারা অস্ত্র জমা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।”

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ও ৬ অক্টোবর টুঙ্গিপাড়ার শ্রীড়ামকান্দি, পাটগাতি ও গওহরডাঙ্গা এলাকায় ডাব কেনা ও ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই দফা সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হন। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই পুলিশ এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করব। এতে দীর্ঘদিনের গ্রাম্য মারামারির সংস্কৃতি বন্ধ হবে বলে আশা করছি।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

গ্রামের শান্তি ফেরাতে টুঙ্গিপাড়ায় সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৪:০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং করে ঢাল, সড়কি, বল্লম, দা, রামদা এবং লাঠির মতো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা স্বেচ্ছায় নিজেদের অস্ত্র জমা দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি থানায় যোগদানের পর দেখেছি যে সামান্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে মারামারি লেগে যায়। শ্রীড়ামকান্দি, গিমাডাঙ্গা, পাটগাতি ও গওহরডাঙ্গা এলাকায় ৯ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই ঢাল-সড়কি, লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝগড়ায় নেমে পড়ে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি ছোট ভুল বা তর্কের কারণে মানুষ আহত হয়, কখনও কখনও মৃত্যুও ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই সবাই এই দীর্ঘদিনের গ্রাম্য মারামারির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুক।”

ওসি আরও জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। হাতে অস্ত্র থাকলে মানুষ উত্তেজিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু অস্ত্র না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে সংযত রাখা সম্ভব হয়। তাই তিনি দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে প্রত্যেকের অস্ত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান। জমা পড়া অস্ত্রগুলো পরে বিধি মোতাবেক ধ্বংস করা হবে।

পাটগাতি গ্রামের হান্নান শেখ বলেন, “আগে সামান্য বিষয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে ঢাল-সড়কি নিয়ে মারামারি হতো। এখন পুলিশ এসব অস্ত্র জমা নিচ্ছে, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।”

পাটগাতি ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রুঙ্গু খান বলেন, “থানার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রচার চালাচ্ছি। যারা অস্ত্র জমা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।”

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ও ৬ অক্টোবর টুঙ্গিপাড়ার শ্রীড়ামকান্দি, পাটগাতি ও গওহরডাঙ্গা এলাকায় ডাব কেনা ও ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই দফা সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হন। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই পুলিশ এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করব। এতে দীর্ঘদিনের গ্রাম্য মারামারির সংস্কৃতি বন্ধ হবে বলে আশা করছি।”