ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির প্রথম দিনে জাতীয় পার্টির চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই শুনানি শুরু হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশনের অডিটরিয়ামে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের উপস্থিতিতে আপিলের শুনানি গ্রহণ করা হয়। এদিন ইসির শুনানিতে জাতীয় পার্টির ওই চার প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধতা পায়।
শুনানি শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের জানান, সারাদেশে জাতীয় পার্টি থেকে ২৪৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, যার মধ্যে ২৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল। শনিবার ৯ জন প্রার্থীর আপিল শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, এদিন পাঁচজনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে চারজন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন এবং একজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থগিত হওয়া প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
পাটোয়ারী আরও বলেন, “আমরা আশাবাদী, আমাদের সব প্রার্থী বৈধ হবেন।” তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া প্রার্থীদের কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে জানান, একটি ক্ষেত্রে তিতাসের গ্যাস বিল বকেয়া ছিল, যা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। আরেকটি ক্ষেত্রে প্রার্থী ফরম জমা দেওয়ার পরও তা গ্রহণ করা হয়নি, যা পরবর্তীতে পুনরায় জমা দেওয়া হয়। এছাড়া, বৈধ নাগরিকত্ব সনদ জমা না দেওয়ার একটি বিষয় ছিল, যা পরে সরবরাহ করা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া আপিল শুনানি আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রবিবার (১১ জানুয়ারি) ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে নির্বাচনি প্রচারণা, যা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চালানো যাবে। ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
রিপোর্টারের নাম 

























