উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে আবারও নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্ক বা দ্বীপটির বাসিন্দাদের অনাগ্রহ সত্ত্বেও যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নিতে চান তিনি। সম্প্রতি তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটন সেখানে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।
ট্রাম্পের যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না নেয়, তবে সেখানে রাশিয়া বা চীন তাদের ঘাঁটি গেড়ে বসবে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের দোরগোড়ায় রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে মেনে নেবেন না। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রাখলেও প্রয়োজনে ‘কঠিন পথ’ বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
লিজ নেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি মালিকানা পাওয়ার বিষয়ে জোর দিয়ে ট্রাম্প বলেন, কোনো ভূখণ্ডকে যথাযথভাবে সুরক্ষা দিতে হলে তার পূর্ণ মালিকানা থাকা জরুরি। তার মতে, কেবল লিজ নিয়ে কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
রুশ সংবাদসংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের আর্থিক দিকগুলো নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ভবিষ্যতে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প তার সহযোগীদের সাথে এই ক্রয় প্রক্রিয়ার সম্ভাব্যতা নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন। এছাড়া এর আগে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এই দ্বীপটি দখলে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি উড়িয়ে দেননি।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে মার্কিন নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটোর অন্যতম সদস্য ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের ওপর এটি বড় আঘাত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন নতুন এক উত্তজনাপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মনোভাব কেবল ডেনমার্কের সাথেই নয়, বরং পুরো ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৫১ সালের এক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী দ্বীপটির সুরক্ষার দায়িত্ব ন্যাটোর কাঠামোর অধীনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই ন্যস্ত। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই অবস্থান সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
সূত্র: তাস ও এনবিসি নিউজ।
রিপোর্টারের নাম 
























