ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে তিনি সরাসরি সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যেন বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও না হয়। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ভিডিও ফুটেজগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান সরকার যদি গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে গত দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানী তেহরানে পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সহিংস এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনী এখন আরও কঠোর ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শত্রুদের সরাসরি দায়ী করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পদ ধ্বংস করছে এবং এটি একটি সাজানো ষড়যন্ত্র। খামেনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে তাকে এই পরিস্থিতির জন্য অভিযুক্ত করেন এবং ইরানিদের রক্তে তার হাত রঞ্জিত বলে মন্তব্য করেন।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রকে জনগণের প্রকৃত অভাব-অভিযোগ শোনার আহ্বান জানালেও কট্টরপন্থী নেতারা দমন-পীড়ন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল রূপ নিয়েছে। বেলুচ অধ্যুষিত জাহেদান শহরে জুমার নামাজের পর বের হওয়া মিছিলে গুলির ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ‘বিপজ্জনক জায়গা’ হিসেবে বর্ণনা করে বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটন থেকে আসা এই সরাসরি হুমকির ফলে দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
রিপোর্টারের নাম 
























