ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ: নতুন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন অভিযানে আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাটকীয় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। মাদুরোর পতনের এক সপ্তাহ পার হতেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির নবগঠিত অন্তর্বর্তী সরকার।

কারাকাস জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অনুসন্ধানমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কারাকাস সফর করেছেন এবং খুব দ্রুত ভেনেজুয়েলার একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রদ্রিগেজ সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন বজায় থাকবে ততক্ষণই, যতক্ষণ তেলের বাজার ও ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলা নিয়ে তাদের তিন ধাপের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ভেঙে পড়া পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং একটি স্থায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনর্গঠন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অপরিহার্য। কোন কোম্পানি সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে, তাও এখন ওয়াশিংটন নির্ধারণ করে দেবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

আলোচনা চলার মধ্যেই সাগরে তৎপরতা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত ওলিনা নামক একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে নৌ-অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করছিল। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভেনেজুয়েলার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো তাদের তদারকিতে থাকবে যাতে ভবিষ্যৎ রাজনীতি মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী না হয়।

ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউসে শেভরন, এক্সনমোবিল এবং কনোকোফিলিপসের মতো শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল এখন থেকে আমেরিকার তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে। একদিকে সাগরে কঠোর অবরোধ এবং অন্যদিকে নতুন সরকারের সঙ্গে আপস—এই দ্বিমুখী কৌশলে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে নিজেদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিশ্চিত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার এই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় মূলত তেলের রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূসের বিদায় ও নতুন সরকারের আগমনে ভারতের স্বস্তি এবং প্রত্যাশার দোলাচল

ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ: নতুন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু

আপডেট সময় : ১০:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন অভিযানে আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাটকীয় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। মাদুরোর পতনের এক সপ্তাহ পার হতেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির নবগঠিত অন্তর্বর্তী সরকার।

কারাকাস জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অনুসন্ধানমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কারাকাস সফর করেছেন এবং খুব দ্রুত ভেনেজুয়েলার একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রদ্রিগেজ সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন বজায় থাকবে ততক্ষণই, যতক্ষণ তেলের বাজার ও ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলা নিয়ে তাদের তিন ধাপের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ভেঙে পড়া পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং একটি স্থায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনর্গঠন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অপরিহার্য। কোন কোম্পানি সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে, তাও এখন ওয়াশিংটন নির্ধারণ করে দেবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

আলোচনা চলার মধ্যেই সাগরে তৎপরতা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত ওলিনা নামক একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে নৌ-অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করছিল। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভেনেজুয়েলার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো তাদের তদারকিতে থাকবে যাতে ভবিষ্যৎ রাজনীতি মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী না হয়।

ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউসে শেভরন, এক্সনমোবিল এবং কনোকোফিলিপসের মতো শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল এখন থেকে আমেরিকার তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে। একদিকে সাগরে কঠোর অবরোধ এবং অন্যদিকে নতুন সরকারের সঙ্গে আপস—এই দ্বিমুখী কৌশলে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে নিজেদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিশ্চিত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার এই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় মূলত তেলের রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।