মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়েছেন। গত ৭ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে কক্সবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে নাম লেখান।
এর আগে ৪ জানুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। সেসময় তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের একজন সাংসদ ক্ষমতাসীন দলের পৌরসভার সভাপতির সমতুল্য। এই ভাবনা থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, বিএনপি যেহেতু ক্ষমতায় ফিরছে, তাই তিনি আর মার খেতে চান না। গত ৪০ বছর ধরে মার খেতে খেতে তিনি ক্লান্ত। এমনকি জুলুম-অত্যাচারের শিকার হয়ে একটি হত্যা মামলায় সাজা পর্যন্ত ভোগ করতে হয়েছে। তবুও তিনি বাঁচতে পারছেন না। তাই এখন তিনি মনে করছেন, এই ‘বেহেশত’ তিনি মানুষের কাছ থেকে নয়, আল্লাহর কাছ থেকে নেবেন। সারাজীবন মার খেয়ে বিরোধী দল হিসেবে থাকার পরিবর্তে এবার সরকারি দলে যুক্ত হয়ে নিজেকে রক্ষা করতে চান তিনি।
জহির উদ্দিনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
গত ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)-এর ‘নোঙ্গর’ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় দেখা যায়। ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর শুরুতে তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং পরে মহেশখালী উপজেলার জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী হন। সবশেষ তিনি বিএনপিতে যুক্ত হলেন।
উল্লেখ্য, মহেশখালী পৌরসভায় জহির উদ্দিনের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার ভাই সরওয়ার আজম স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন আলোচিত নেতা এবং সাবেক পৌর মেয়র ছিলেন। আরেক ভাই মোহাম্মদ শাহাজাহান বর্তমানে যুবলীগের সভাপতি। এছাড়াও তার আরেক ভাই জাতীয় পার্টি ও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়।
জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে তার সাজা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























