ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে তথ্যের গরমিল: বিতর্কে পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলমের দাখিলকৃত নথিপত্রে আয়ের তথ্যে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা এবং আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত আয়ের পরিমাণে ব্যাপক ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী সারজিস আলম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে তার ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে দেখা যাচ্ছে, সেখানে তার মোট আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, হলফনামার তুলনায় আয়কর রিটার্নে তিনি তিন গুণেরও বেশি আয় দেখিয়েছেন। মজার বিষয় হলো, আয়ের এই দুটি ভিন্ন তথ্যই তিনি তার নির্বাচনী হলফনামার সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন।

কেবল আয়ের ক্ষেত্রেই নয়, সম্পদের তথ্যেও বড় ধরনের অমিল দেখা গেছে। আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উল্লেখ করলেও, হলফনামার সম্পদ বিবরণীতে এর চেয়ে অনেক কম সম্পদ দেখিয়েছেন।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য মতে, তার অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদে রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি উপহার হিসেবে পাওয়া ১৬.৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা। তিনি ২০২৫-২৬ করবর্ষে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন বলেও নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে সারজিস আলম জানিয়েছেন, চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে তিনি উপহার হিসেবে ১১ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছেন। এছাড়া আরও এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। নথিপত্র অনুযায়ী, তার শ্বশুর-শাশুড়ি, চাচা এবং মামারাও তাকে উপহার হিসেবে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। তবে ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা নথির স্ক্যান কপি অস্পষ্ট থাকায় উপহারের সঠিক পরিমাণ স্পষ্ট নয়, যদিও ধারণা করা হচ্ছে প্রত্যেকে অন্তত ১ লাখ টাকা করে দিচ্ছেন। পাশাপাশি শ্যালকের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার তথ্যও দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সারজিস আলমের বিরুদ্ধে গাজীপুরে একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় তথ্যের এমন অসংগতি নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূসের বিদায় ও নতুন সরকারের আগমনে ভারতের স্বস্তি এবং প্রত্যাশার দোলাচল

হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে তথ্যের গরমিল: বিতর্কে পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম

আপডেট সময় : ০১:০০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলমের দাখিলকৃত নথিপত্রে আয়ের তথ্যে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা এবং আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত আয়ের পরিমাণে ব্যাপক ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী সারজিস আলম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে তার ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে দেখা যাচ্ছে, সেখানে তার মোট আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, হলফনামার তুলনায় আয়কর রিটার্নে তিনি তিন গুণেরও বেশি আয় দেখিয়েছেন। মজার বিষয় হলো, আয়ের এই দুটি ভিন্ন তথ্যই তিনি তার নির্বাচনী হলফনামার সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন।

কেবল আয়ের ক্ষেত্রেই নয়, সম্পদের তথ্যেও বড় ধরনের অমিল দেখা গেছে। আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উল্লেখ করলেও, হলফনামার সম্পদ বিবরণীতে এর চেয়ে অনেক কম সম্পদ দেখিয়েছেন।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য মতে, তার অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদে রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি উপহার হিসেবে পাওয়া ১৬.৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা। তিনি ২০২৫-২৬ করবর্ষে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন বলেও নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে সারজিস আলম জানিয়েছেন, চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে তিনি উপহার হিসেবে ১১ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছেন। এছাড়া আরও এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। নথিপত্র অনুযায়ী, তার শ্বশুর-শাশুড়ি, চাচা এবং মামারাও তাকে উপহার হিসেবে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। তবে ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা নথির স্ক্যান কপি অস্পষ্ট থাকায় উপহারের সঠিক পরিমাণ স্পষ্ট নয়, যদিও ধারণা করা হচ্ছে প্রত্যেকে অন্তত ১ লাখ টাকা করে দিচ্ছেন। পাশাপাশি শ্যালকের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার তথ্যও দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সারজিস আলমের বিরুদ্ধে গাজীপুরে একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় তথ্যের এমন অসংগতি নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।