ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ঋণখেলাপির দায়ে ৮২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক ২ হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮২ জনকে ঋণখেলাপি হিসেবে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি)। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে করা এই যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীই ঋণের দায়ে নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। তবে ৩১ জন প্রার্থী আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ২ হাজার ৪৬১ জন প্রার্থীকে ইতিমধ্যে খেলাপিমুক্ত হিসেবে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না, যার ফলে সিআইবি রিপোর্টের ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই ৮২ জনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন।

বাতিল হওয়া প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম জাতীয় পার্টির (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অংশ) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে তাঁর মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এবং রাওয়ার সাবেক সভাপতি কর্নেল (অব.) আব্দুল হকের মনোনয়নপত্রও একই কারণে বাতিল হয়েছে। বাঘেরহাট-২ আসনে এলডিপি প্রার্থী মো. হাসান ইমাম লিটু এবং বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মজিবুর রহমান শামীমও ঋণখেলাপির দায়ে বাদ পড়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ নিয়মিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সিআইবি প্রতিবেদনে তাঁদের নাম খেলাপি হিসেবে রয়ে গেছে।

সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কেবল নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্যই নয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই সব খেলাপি ঋণ পরিশোধ বা নবায়ন করা বাধ্যতামূলক। এমনকি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যদি কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর সদস্যপদ বাতিলের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

তবে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাঁরা আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি হবে। আপিল শুনানির সময়ও ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে ঋণের সর্বশেষ তথ্য কমিশনকে অবহিত করবেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে টানা ৪৮ দিন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: বিপর্যয়ে জনজীবন

ঋণখেলাপির দায়ে ৮২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক ২ হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮২ জনকে ঋণখেলাপি হিসেবে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি)। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে করা এই যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীই ঋণের দায়ে নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। তবে ৩১ জন প্রার্থী আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ২ হাজার ৪৬১ জন প্রার্থীকে ইতিমধ্যে খেলাপিমুক্ত হিসেবে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না, যার ফলে সিআইবি রিপোর্টের ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই ৮২ জনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন।

বাতিল হওয়া প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম জাতীয় পার্টির (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অংশ) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে তাঁর মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এবং রাওয়ার সাবেক সভাপতি কর্নেল (অব.) আব্দুল হকের মনোনয়নপত্রও একই কারণে বাতিল হয়েছে। বাঘেরহাট-২ আসনে এলডিপি প্রার্থী মো. হাসান ইমাম লিটু এবং বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মজিবুর রহমান শামীমও ঋণখেলাপির দায়ে বাদ পড়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ নিয়মিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সিআইবি প্রতিবেদনে তাঁদের নাম খেলাপি হিসেবে রয়ে গেছে।

সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কেবল নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্যই নয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই সব খেলাপি ঋণ পরিশোধ বা নবায়ন করা বাধ্যতামূলক। এমনকি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যদি কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর সদস্যপদ বাতিলের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

তবে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাঁরা আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি হবে। আপিল শুনানির সময়ও ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে ঋণের সর্বশেষ তথ্য কমিশনকে অবহিত করবেন।