ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পিজিসিবির টেন্ডার কেলেঙ্কারি: কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) একটি বড় প্রকল্পে ভয়াবহ টেন্ডার জালিয়াতির তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও স্বচ্ছতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পিজিসিবির একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নরসিংদীর মাধবপুর-মনোহরদী সাবস্টেশন প্রকল্পের আন্তর্জাতিক দরপত্রে এই নজিরবিহীন কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে সুনাম থাকা বড় বড় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৌশলে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর পরিবর্তে পিজিসিবি কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘এনার্জিপ্যাক বাংলাদেশ’কে একটি অখ্যাত কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। অথচ আর্থিক নয়ছয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম গাফিলতির দায়ে পিজিসিবির পরিচালনা পর্ষদ এনার্জিপ্যাককে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সব ধরনের দরপত্রে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছিল। বোর্ডের সেই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেই অভ্যন্তরীণ একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ তৎপরতা চালাচ্ছে।

এই অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাষ্ট্রের একটি শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা তদন্তে নেমেছে। গোয়েন্দা সংস্থাটি এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। বিদ্যুৎ খাতের এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়ম অব্যাহত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডের নিরাপত্তার জন্য যেমন ঝুঁকি তৈরি করবে, তেমনি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ বাছাই: বসনিয়ার সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট হারাল কানাডা

পিজিসিবির টেন্ডার কেলেঙ্কারি: কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

আপডেট সময় : ০৯:২১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) একটি বড় প্রকল্পে ভয়াবহ টেন্ডার জালিয়াতির তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও স্বচ্ছতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পিজিসিবির একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নরসিংদীর মাধবপুর-মনোহরদী সাবস্টেশন প্রকল্পের আন্তর্জাতিক দরপত্রে এই নজিরবিহীন কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে সুনাম থাকা বড় বড় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৌশলে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর পরিবর্তে পিজিসিবি কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘এনার্জিপ্যাক বাংলাদেশ’কে একটি অখ্যাত কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। অথচ আর্থিক নয়ছয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম গাফিলতির দায়ে পিজিসিবির পরিচালনা পর্ষদ এনার্জিপ্যাককে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সব ধরনের দরপত্রে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছিল। বোর্ডের সেই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেই অভ্যন্তরীণ একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ তৎপরতা চালাচ্ছে।

এই অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাষ্ট্রের একটি শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা তদন্তে নেমেছে। গোয়েন্দা সংস্থাটি এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। বিদ্যুৎ খাতের এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়ম অব্যাহত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডের নিরাপত্তার জন্য যেমন ঝুঁকি তৈরি করবে, তেমনি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।