ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বলপূর্বক গুমের ঘটনাগুলো ছিল সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অপরাধ। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এসব ঘটনার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে অনেক গুমের সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন।
এছাড়া তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই ঐতিহাসিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ড. ইউনূস এই নৃশংসতাকে ‘পৈশাচিক’ হিসেবে বর্ণনা করে কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে ১৫ বছরে গুম হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৪ থেকে ৬ হাজার হতে পারে, যার মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯ জনকে ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, যারা জীবিত ফিরে এসেছেন তাদের ৭৫ শতাংশই জামায়াত-শিবিরের এবং ২২ শতাংশ বিএনপির নেতাকর্মী। তবে যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপির এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনে ইলিয়াস আলী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আবদুল্লাহিল আমান আযমীর মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের গুমের ঘটনা উল্লেখ করে জানানো হয়েছে যে, অনেককে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে এক শিউরে ওঠা তথ্য, গুমের পর অন্তত ২৮৭ জন ব্যক্তিকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বরিশালের বলেশ্বর নদীকে লাশ গুমের প্রধান স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন, যেখানে শত শত ভুক্তভোগীকে হত্যার পর ফেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সীগঞ্জেও লাশ ফেলার প্রমাণ মিলেছে। কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানান, এটি সম্পূর্ণ ‘পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম’ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ। র্যাব, ডিবি এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট একক বা যৌথভাবে এসব গুম ও হত্যাকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। প্রধান উপদেষ্টা এই প্রতিবেদনকে পৈশাচিকতার এক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে অভিহিত করে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























