ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতার টানাপোড়েন: আশাবাদী জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও টানাপোড়েন। নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমাদানের কাজ শেষ হলেও, জোটের শরিকদের মধ্যে কে কোন আসনে লড়বেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে আসন সংখ্যা নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৯ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন হওয়ায়, হাতে থাকা মাত্র চার দিনের মধ্যে এই জট খোলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। এই জোটের মূল লক্ষ্য ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র মাধ্যমে সকল ইসলামপন্থী ভোট একটি বাক্সে নিয়ে আসা, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সূত্রমতে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটের কাছে ন্যূনতম ১২০ থেকে ১৫০টি আসনের দাবি তুলেছে। দলটির নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম প্রকাশ্যেই জোটের এই অসম বন্টন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের দল জামায়াতের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই, তাই ৩৫টি আসনের প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি সমঝোতা না হলে জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দেওয়ার মতো কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ১৯০টি আসনে নিজেদের প্রার্থী রাখতে অনড় থাকলেও তারা জোটের বৃহত্তর স্বার্থে ১১০টি আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলে আভাস পাওয়া গেছে। এনসিপি, এলডিপি এবং লেবার পার্টির মতো নতুন শরিকদের আসন নিশ্চিত করতে গিয়েই এই জটিলতা আরও প্রকট হয়েছে।

টানাপোড়েন চললেও উভয় দলের শীর্ষ নেতারা আশার আলো দেখছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলি আকন্দ এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিন্ন সুরে জানিয়েছেন যে, দু-এক দিনের মধ্যেই ‘ভালো খবর’ পাওয়া যাবে। তাদের মতে, সংখ্যার চেয়ে প্রার্থীর সক্ষমতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। জোটের নীতি অনুযায়ী, যে আসনে যার অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী, জোটের অন্য প্রার্থীরা সেখান থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। এই কৌশলগত ঐক্যের মাধ্যমেই তারা ভোটের ময়দানে একটি বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামপন্থী দলগুলোর এই জোট গঠন বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে চলমান এই ‘ম্যারাথন’ বৈঠক ও দরকষাকষি যদি সময়মতো সফল না হয়, তবে বিদ্রোহী প্রার্থীর আধিক্য জোটের মূল লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে। শেষ মুহূর্তের এই রাজনৈতিক ‘হিমশিম’ অবস্থা এখন ১১ দলীয় জোটের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতার জন্য এসিড টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মাধ্যমেই পরিষ্কার হবে যে, ইসলামপন্থীরা শেষ পর্যন্ত কতটা সংহতি বজায় রাখতে পারল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে টানা ৪৮ দিন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: বিপর্যয়ে জনজীবন

১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতার টানাপোড়েন: আশাবাদী জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন

আপডেট সময় : ০৩:১৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও টানাপোড়েন। নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমাদানের কাজ শেষ হলেও, জোটের শরিকদের মধ্যে কে কোন আসনে লড়বেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে আসন সংখ্যা নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৯ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন হওয়ায়, হাতে থাকা মাত্র চার দিনের মধ্যে এই জট খোলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। এই জোটের মূল লক্ষ্য ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র মাধ্যমে সকল ইসলামপন্থী ভোট একটি বাক্সে নিয়ে আসা, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সূত্রমতে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটের কাছে ন্যূনতম ১২০ থেকে ১৫০টি আসনের দাবি তুলেছে। দলটির নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম প্রকাশ্যেই জোটের এই অসম বন্টন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের দল জামায়াতের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই, তাই ৩৫টি আসনের প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি সমঝোতা না হলে জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দেওয়ার মতো কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ১৯০টি আসনে নিজেদের প্রার্থী রাখতে অনড় থাকলেও তারা জোটের বৃহত্তর স্বার্থে ১১০টি আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলে আভাস পাওয়া গেছে। এনসিপি, এলডিপি এবং লেবার পার্টির মতো নতুন শরিকদের আসন নিশ্চিত করতে গিয়েই এই জটিলতা আরও প্রকট হয়েছে।

টানাপোড়েন চললেও উভয় দলের শীর্ষ নেতারা আশার আলো দেখছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলি আকন্দ এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিন্ন সুরে জানিয়েছেন যে, দু-এক দিনের মধ্যেই ‘ভালো খবর’ পাওয়া যাবে। তাদের মতে, সংখ্যার চেয়ে প্রার্থীর সক্ষমতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। জোটের নীতি অনুযায়ী, যে আসনে যার অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী, জোটের অন্য প্রার্থীরা সেখান থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। এই কৌশলগত ঐক্যের মাধ্যমেই তারা ভোটের ময়দানে একটি বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামপন্থী দলগুলোর এই জোট গঠন বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে চলমান এই ‘ম্যারাথন’ বৈঠক ও দরকষাকষি যদি সময়মতো সফল না হয়, তবে বিদ্রোহী প্রার্থীর আধিক্য জোটের মূল লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে। শেষ মুহূর্তের এই রাজনৈতিক ‘হিমশিম’ অবস্থা এখন ১১ দলীয় জোটের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতার জন্য এসিড টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মাধ্যমেই পরিষ্কার হবে যে, ইসলামপন্থীরা শেষ পর্যন্ত কতটা সংহতি বজায় রাখতে পারল।