ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

‘গোলামীর রাজনীতি নয়, আজাদির লড়াই শুরু হলো’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বাংলাদেশে চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী রাজনৈতিক ময়দানে নতুন মেরুকরণের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ১১ দলীয় জোট এখন থেকে কোনো গোলামীর রাজনীতি নয়, বরং দেশের প্রকৃত ‘আজাদি’ বা স্বাধীনতার জন্য কাজ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিএনপির দিকে হেলে পড়ছে, যা বিগত স্বৈরাচারী আমলের দলীয় লেজুড়বৃত্তির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক দলকানা আচরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, কর্মস্থল ফেলে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক নেতাকে স্বাগত জানানো গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আর বরদাস্ত করা হবে না।

নির্বাচনী প্রচারণার প্রাক্কালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনের শাহবাগ ও রমনা এলাকাকে ‘আজাদির এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই জনপদে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ বা চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাম্য ও হাদিসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে তাদের এই আজাদির লড়াই চলবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করে নির্বাচনী ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দেশের একজন বর্ষীয়ান নেত্রীর জন্য অসম্মানজনক।

অনুষ্ঠানে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি প্রশাসনের ভূমিকা একপাক্ষিক হয়, তবে এমন নির্বাচনের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যদি প্রকৃতই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তবে প্রশাসনের এই নগ্ন দলীয়করণের বিরুদ্ধে তাদেরও সোচ্চার হতে হবে। প্রচারণায় কেবল মুক্তির বার্তা থাকবে উল্লেখ করে নেতারা জানান, কোনো বিশেষ প্রতীক নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। ১১ দলীয় জোটের এই অবস্থান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পোরশা উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রাশেদ, সম্পাদক শহিদুল

‘গোলামীর রাজনীতি নয়, আজাদির লড়াই শুরু হলো’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আপডেট সময় : ০২:৪৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী রাজনৈতিক ময়দানে নতুন মেরুকরণের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ১১ দলীয় জোট এখন থেকে কোনো গোলামীর রাজনীতি নয়, বরং দেশের প্রকৃত ‘আজাদি’ বা স্বাধীনতার জন্য কাজ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিএনপির দিকে হেলে পড়ছে, যা বিগত স্বৈরাচারী আমলের দলীয় লেজুড়বৃত্তির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক দলকানা আচরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, কর্মস্থল ফেলে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক নেতাকে স্বাগত জানানো গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আর বরদাস্ত করা হবে না।

নির্বাচনী প্রচারণার প্রাক্কালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনের শাহবাগ ও রমনা এলাকাকে ‘আজাদির এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই জনপদে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ বা চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাম্য ও হাদিসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে তাদের এই আজাদির লড়াই চলবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করে নির্বাচনী ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দেশের একজন বর্ষীয়ান নেত্রীর জন্য অসম্মানজনক।

অনুষ্ঠানে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি প্রশাসনের ভূমিকা একপাক্ষিক হয়, তবে এমন নির্বাচনের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যদি প্রকৃতই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তবে প্রশাসনের এই নগ্ন দলীয়করণের বিরুদ্ধে তাদেরও সোচ্চার হতে হবে। প্রচারণায় কেবল মুক্তির বার্তা থাকবে উল্লেখ করে নেতারা জানান, কোনো বিশেষ প্রতীক নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। ১১ দলীয় জোটের এই অবস্থান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।