ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

শহীদ হাদির কবর জিয়ারতে আজাদির লড়াইয়ের ডাক: শাহবাগ ও রমনাকে ‘আজাদির এলাকা’ ঘোষণা

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ‘আজাদির’ লড়াই শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, কোনো ধরনের গোলামির রাজনীতির কাছে মাথা নত না করতেই তারা এই আজাদির জোটে শামিল হয়েছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই নতুন রাজনৈতিক সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জোটের নেতারা। এসময় শহীদ হাদির স্বপ্নের পথ ধরে আন্দোলনের অঙ্গীকার করেন নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী।

অনুষ্ঠানে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নির্যাতিত হওয়া বিএনপি এখন জুলাই আন্দোলনের বিরোধীদের কাছে হাইজ্যাক হয়ে যাচ্ছে।

নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি প্রশাসন এখন একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার আমলের সেই পুরনো অপসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনছেন এবং নিজেদের দায়িত্ব ফেলে রাজনৈতিক নেতাদের স্বাগত জানাতে ব্যস্ত থাকছেন। প্রশাসনের এমন ‘দলকানা’ মনোভাব দেশের মানুষের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের নির্লিপ্ততার কঠোর সমালোচনা করে পাটোয়ারী বলেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত হাদির খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ ও রমনা এলাকা নিয়ে বিশেষ ঘোষণা দেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি জানান, আজ থেকে শাহবাগ ও রমনা এলাকাকে তারা ‘আজাদির এলাকা’ হিসেবে গণ্য করবেন। এই এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি বা অপশক্তির স্থান হবে না বলে তিনি কঠোর বার্তা প্রদান করেন। ১১ দলীয় জোটের মূল ভিত্তি হবে ‘আজাদি’ এবং তারা হাদির অসমাপ্ত লড়াইকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুর-৬ আসনে একই গ্রাম থেকে দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটারদের আগ্রহ তুঙ্গে

শহীদ হাদির কবর জিয়ারতে আজাদির লড়াইয়ের ডাক: শাহবাগ ও রমনাকে ‘আজাদির এলাকা’ ঘোষণা

আপডেট সময় : ০১:৫৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ‘আজাদির’ লড়াই শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, কোনো ধরনের গোলামির রাজনীতির কাছে মাথা নত না করতেই তারা এই আজাদির জোটে শামিল হয়েছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই নতুন রাজনৈতিক সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জোটের নেতারা। এসময় শহীদ হাদির স্বপ্নের পথ ধরে আন্দোলনের অঙ্গীকার করেন নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী।

অনুষ্ঠানে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নির্যাতিত হওয়া বিএনপি এখন জুলাই আন্দোলনের বিরোধীদের কাছে হাইজ্যাক হয়ে যাচ্ছে।

নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি প্রশাসন এখন একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার আমলের সেই পুরনো অপসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনছেন এবং নিজেদের দায়িত্ব ফেলে রাজনৈতিক নেতাদের স্বাগত জানাতে ব্যস্ত থাকছেন। প্রশাসনের এমন ‘দলকানা’ মনোভাব দেশের মানুষের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের নির্লিপ্ততার কঠোর সমালোচনা করে পাটোয়ারী বলেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত হাদির খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ ও রমনা এলাকা নিয়ে বিশেষ ঘোষণা দেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি জানান, আজ থেকে শাহবাগ ও রমনা এলাকাকে তারা ‘আজাদির এলাকা’ হিসেবে গণ্য করবেন। এই এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি বা অপশক্তির স্থান হবে না বলে তিনি কঠোর বার্তা প্রদান করেন। ১১ দলীয় জোটের মূল ভিত্তি হবে ‘আজাদি’ এবং তারা হাদির অসমাপ্ত লড়াইকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।