ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শাবিপ্রবিতে টিলার ভয়াবহ আগুন: ৬ কর্মী আহত, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের আশ্বাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফাতেমা তুজ জাহরা ছাত্রী হল সংলগ্ন টিলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আড়াইটার দিকে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে টিলার প্রায় ২০০ শতক এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে হলের ৬ জন নিরাপত্তাকর্মী ও ইলেক্ট্রিশিয়ান আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং প্রশাসনের বিলম্বিত উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, টিলার পাশে জমে থাকা আকাশমনি গাছের শুকনো পাতা থেকে আগুনের উৎপত্তি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বিড়ি বা সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ থেকে এই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পরপরই হলের নিরাপত্তাকর্মী, মালি ও ইলেক্ট্রিশিয়ানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলেন।

আহতদের মধ্যে হলের ইলেক্ট্রিশিয়ান আজিজুল হক এবং গার্ডেনার রাকিব হোসাইন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আজিজুল হকের শ্বাসনালিতে ধোঁয়া প্রবেশ করায় তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং বর্তমানে অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন। গার্ডেনার রাকিব হোসাইনও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। অন্যান্য আহতরা হলেন নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জন দাস, লিমন দাস, সুমন আহমদ এবং ইলেক্ট্রিশিয়ান সেলিম মিয়া। তাঁদের মধ্যে কারও পা ছিটে গেছে, কারও হাত কেটে গেছে বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া হলে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে হল ছেড়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নেন। তারা প্রশাসনের দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বিলম্বে আসার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমের কাছে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানো কর্মীদের পুরস্কৃত করা, তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও একটি জরুরি হটলাইন চালু করা।

এদিকে, হলের নিরাপত্তাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, হলে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল। ফলে সেগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। নিরাপত্তা শাখার সুপারভাইজার আজিজুর রহমান আহত কর্মীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করার এবং তাদের উৎসাহ দিতে সম্মানী বা পুরস্কারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিও প্রশাসনের সহমত রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদোত্তীর্ণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হল কর্তৃপক্ষ অবহিত না করলে তার পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান রাজধানীতে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, সীমান্তে চরম উত্তেজনা

শাবিপ্রবিতে টিলার ভয়াবহ আগুন: ৬ কর্মী আহত, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৬:০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফাতেমা তুজ জাহরা ছাত্রী হল সংলগ্ন টিলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আড়াইটার দিকে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে টিলার প্রায় ২০০ শতক এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে হলের ৬ জন নিরাপত্তাকর্মী ও ইলেক্ট্রিশিয়ান আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং প্রশাসনের বিলম্বিত উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, টিলার পাশে জমে থাকা আকাশমনি গাছের শুকনো পাতা থেকে আগুনের উৎপত্তি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বিড়ি বা সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ থেকে এই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পরপরই হলের নিরাপত্তাকর্মী, মালি ও ইলেক্ট্রিশিয়ানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলেন।

আহতদের মধ্যে হলের ইলেক্ট্রিশিয়ান আজিজুল হক এবং গার্ডেনার রাকিব হোসাইন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আজিজুল হকের শ্বাসনালিতে ধোঁয়া প্রবেশ করায় তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং বর্তমানে অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন। গার্ডেনার রাকিব হোসাইনও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। অন্যান্য আহতরা হলেন নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জন দাস, লিমন দাস, সুমন আহমদ এবং ইলেক্ট্রিশিয়ান সেলিম মিয়া। তাঁদের মধ্যে কারও পা ছিটে গেছে, কারও হাত কেটে গেছে বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া হলে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে হল ছেড়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নেন। তারা প্রশাসনের দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বিলম্বে আসার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমের কাছে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানো কর্মীদের পুরস্কৃত করা, তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও একটি জরুরি হটলাইন চালু করা।

এদিকে, হলের নিরাপত্তাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, হলে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল। ফলে সেগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। নিরাপত্তা শাখার সুপারভাইজার আজিজুর রহমান আহত কর্মীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করার এবং তাদের উৎসাহ দিতে সম্মানী বা পুরস্কারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিও প্রশাসনের সহমত রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদোত্তীর্ণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হল কর্তৃপক্ষ অবহিত না করলে তার পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।