ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: গণমাধ্যম হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতাকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক নীতিগত সংলাপে বক্তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এই সংলাপে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

সংলাপে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নেওয়া বেশ কিছু সংস্কারের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিচারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উচ্চ আদালতে স্থানান্তর, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী মানবাধিকার আইন প্রণয়ন এবং আইনি সহায়তা কার্যক্রমের ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে আগের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি মানুষ রাষ্ট্রীয় আইনি সহায়তা পাচ্ছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৯০ শতাংশ উন্নয়ন আনা হয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে, অর্থবহ সংস্কারের জন্য সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে আত্মসমালোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে দেশকে এগিয়ে নিতে সততা, বিবেক, সহনশীলতা ও জবাবদিহিকে অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর ততই সংকুচিত হয়। আইনকে প্রায়শই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে আদৌ আইনের শাসন আছে কি না, এবং দীর্ঘসূত্র আদালত কার্যক্রম ও ভঙ্গুর গণমাধ্যম স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেন। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসব ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে অভিহিত করেন। জিল্লুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের ভয় ভিন্নমত দমন করেছিল, আর বর্তমানে ‘মব কালচার’-এর উত্থান দেখা যাচ্ছে। তিনি গত ৫৪ বছরে সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতির অভাব, সাংবাদিক বরখাস্ত, গণমাধ্যম মালিকানার পরিবর্তন এবং গোয়েন্দা সংস্থার অপব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবাধিকারকে সার্বজনীন উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখনও অর্থ, ক্ষমতা ও ধর্মের ওপর নির্ভরশীল, আর রাষ্ট্র ‘মব শক্তি’র উত্থানকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে আদিবাসীদের অধিকার নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান এবং নির্বাচনের পর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা সংশোধন হলেও এর প্রয়োগে এখনও ত্রুটি রয়েছে বলে জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন সাংবাদিকরা কেন গুম ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করতে ভয় পান। ঔপনিবেশিক আমলের আইন—যেমন ধর্ম অবমাননা, সন্ত্রাসবিরোধী ও মানহানি আইন—নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের আহ্বান জানিয়ে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি ছোট দলগুলোকে লোভের মাধ্যমে বিভক্ত করে ‘সুপ্রিম লিডার’ তৈরির প্রবণতা এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান ‘মব সহিংসতা’কে আদালতের রায়ের চেয়েও শক্তিশালী উল্লেখ করে সরকারের দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সমালোচনা সহ্য না করার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের জন্য ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেন। সাংবাদিক মো. মুক্তাদির রশীদ রোমিও প্রশ্ন রাখেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন নাগরিকদের নাকি মবের হাতে? তিনি কার্যকর কমিশনের অভাব এবং ভিন্নমতকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন দিদার ভূঁইয়া, রাগিব আহসান মুন্না, পারভেজ করিম আব্বাসী, ফারুক হাসান, পল্লব চাকমা, ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান ও শেখ ফজলুল করিম মারুফ প্রমৃখ। তারা নাগরিক পরিসর সংকোচন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে মব শক্তির ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মা ইয়েস বললে ওপেন, নো বললে ব্লক’: ট্রাইব্যুনালে জয়-পলকের ফোনালাপ

নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: গণমাধ্যম হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতাকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক নীতিগত সংলাপে বক্তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এই সংলাপে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

সংলাপে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নেওয়া বেশ কিছু সংস্কারের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিচারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উচ্চ আদালতে স্থানান্তর, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী মানবাধিকার আইন প্রণয়ন এবং আইনি সহায়তা কার্যক্রমের ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে আগের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি মানুষ রাষ্ট্রীয় আইনি সহায়তা পাচ্ছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৯০ শতাংশ উন্নয়ন আনা হয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে, অর্থবহ সংস্কারের জন্য সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে আত্মসমালোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে দেশকে এগিয়ে নিতে সততা, বিবেক, সহনশীলতা ও জবাবদিহিকে অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর ততই সংকুচিত হয়। আইনকে প্রায়শই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে আদৌ আইনের শাসন আছে কি না, এবং দীর্ঘসূত্র আদালত কার্যক্রম ও ভঙ্গুর গণমাধ্যম স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেন। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসব ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে অভিহিত করেন। জিল্লুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের ভয় ভিন্নমত দমন করেছিল, আর বর্তমানে ‘মব কালচার’-এর উত্থান দেখা যাচ্ছে। তিনি গত ৫৪ বছরে সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতির অভাব, সাংবাদিক বরখাস্ত, গণমাধ্যম মালিকানার পরিবর্তন এবং গোয়েন্দা সংস্থার অপব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবাধিকারকে সার্বজনীন উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখনও অর্থ, ক্ষমতা ও ধর্মের ওপর নির্ভরশীল, আর রাষ্ট্র ‘মব শক্তি’র উত্থানকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে আদিবাসীদের অধিকার নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান এবং নির্বাচনের পর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা সংশোধন হলেও এর প্রয়োগে এখনও ত্রুটি রয়েছে বলে জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন সাংবাদিকরা কেন গুম ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করতে ভয় পান। ঔপনিবেশিক আমলের আইন—যেমন ধর্ম অবমাননা, সন্ত্রাসবিরোধী ও মানহানি আইন—নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের আহ্বান জানিয়ে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি ছোট দলগুলোকে লোভের মাধ্যমে বিভক্ত করে ‘সুপ্রিম লিডার’ তৈরির প্রবণতা এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান ‘মব সহিংসতা’কে আদালতের রায়ের চেয়েও শক্তিশালী উল্লেখ করে সরকারের দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সমালোচনা সহ্য না করার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের জন্য ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেন। সাংবাদিক মো. মুক্তাদির রশীদ রোমিও প্রশ্ন রাখেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন নাগরিকদের নাকি মবের হাতে? তিনি কার্যকর কমিশনের অভাব এবং ভিন্নমতকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন দিদার ভূঁইয়া, রাগিব আহসান মুন্না, পারভেজ করিম আব্বাসী, ফারুক হাসান, পল্লব চাকমা, ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান ও শেখ ফজলুল করিম মারুফ প্রমৃখ। তারা নাগরিক পরিসর সংকোচন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে মব শক্তির ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।