২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দুটি জোটের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইসলামী দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা এবং গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শক্তি এনসিপিকে সঙ্গে নেওয়া জামায়াতের জন্য বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গীদের পাশে পাওয়া বিএনপিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে। তবে শেষ পর্যন্ত নারী ভোটার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ইস্যুই জয়-পরাজয়ের মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট রাজনীতির হিসাব-নিকাশ এখন তুঙ্গে। দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবার পৃথকভাবে বা ভিন্ন ভিন্ন সমঝোতায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই শক্তির লড়াই হবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের মূল আকর্ষণ।
জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলসহ মোট ১০টি ইসলামী ও সমমনা দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মতে, অতীতে কওমি দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব থাকলেও এবার তারা এক সারিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এনসিপি-র সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী সমঝোতা সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীনের মতে, জামায়াত আমিরের ক্ষমা প্রার্থনার মানসিকতা এবং নতুন রাজনৈতিক মিত্র গ্রহণ সাধারণ ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর বিএনপির অভ্যন্তরীণ ও জোটগত জট অনেকটাই কেটে গেছে। নুরুল হক নুরের গণঅধিকার পরিষদ, মাহমুদুর রহমান মান্না ও জোনায়েদ সাকির মতো নেতাদের পাশে পাওয়া বিএনপির জোটকে একটি ‘ব্রড-বেজড’ বা বিস্তৃত রূপ দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি একটি মধ্যপন্থি অবস্থান নিয়ে এগোচ্ছে। ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের যে দেশব্যাপী পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে, তা নির্বাচনে বিএনপিকে বড় ধরনের সুবিধা দেবে। বিশেষ করে যারা আওয়ামী লীগের বিকল্প খুঁজছেন বা দলটির সাবেক ভোটার, তাদের একটি বড় অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনা এবং নারী ভোটারদের সমর্থন। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হওয়ায় তাদের জন্য আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি দুই জোটের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া শিক্ষিত তরুণ ভোটাররা যারা সংস্কারের দাবি নিয়ে রাজপথে ছিল, তাদের ভোট টানতে ‘এনসিপি-জামায়াত’ জোটের সংস্কার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচন হতে যাচ্ছে মূলত দুই বড় জোটের রণকৌশলের লড়াই। একদিকে জামায়াতের নতুন মিত্রদের নিয়ে গড়ে তোলা সংহতি, অন্যদিকে বিএনপির চিরাচরিত জনপ্রিয়তা ও মধ্যপন্থি অবস্থান। এই দুইয়ের মধ্যে কার পাল্লা বেশি ভারী হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের আগমুহূর্তে সাধারণ ভোটারদের আস্থার ওপর।
রিপোর্টারের নাম 

























