বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক নূর আহমদ নূরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মামুনুল হকসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কওমি আলেম ও ইসলামপন্থী নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও বাংলাদেশ এখনো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সফরটি মূলত ‘ব্যক্তিগত’ ও ‘সৌজন্যমূলক’ হিসেবে প্রচার করা হলেও এতে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে আলোচনার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিনিধি দলটি মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসাসহ বেশ কিছু বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। বাংলাদেশ-আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু সায়েম খালেদ জানান, আফগান কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এটিকে নূরের একটি ব্যক্তিগত সফর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিভিন্ন মুসলিম দেশের ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর একটি বড় জোট (আট দলীয় জোট) অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে খেলাফত মজলিস ও জামায়াতে ইসলামীর মতো প্রভাবশালী দলগুলো রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তালেবানের এই সফরকে বাংলাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে আফগানিস্তানের স্বীকৃতি আদায়ে এই যোগাযোগ তালেবানদের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























