সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিন দশকের দীর্ঘ ‘দুই নেত্রীর লড়াই’ বা ‘ব্যাটল অব বেগমস’-এর এক আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর এই প্রয়াণ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে।
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই আপসহীন নেত্রী। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ১৯৯০-এর দশক থেকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে আসছিল, তার অবসান ঘটল।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ফলে বিএনপির নেতৃত্বে এখন এককভাবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত সপ্তাহেই দেশে ফিরেছেন তিনি। দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের ভেতরে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত যে সামান্য অস্পষ্টতা ছিল, তারও অবসান ঘটেছে।
বর্তমানে তারেক রহমানই বিএনপির একমাত্র অবিসংবাদিত নেতা এবং আসন্ন নির্বাচনে দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরগুলো যখন কিছুটা বিভক্ত, তখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি সংহত অবস্থানে থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি হবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথম কোনো জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিষিদ্ধ থাকায় বিএনপি বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তারেক রহমান তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রতিহিংসার রাজনীতির বদলে জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার ডাক দিয়েছেন, যা দলের ভাবমূর্তি পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী ও এস জয়শঙ্করের শোকবার্তা এবং বিএনপির বর্তমান নমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপি ভারতের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।
রিপোর্টারের নাম 
























