ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন আজ: ১০ সহস্রাধিক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, থাকছে ৫ স্তরের সুরক্ষা বলয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন ও ‘বিশেষ নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনে ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়াকে নিশ্ছিদ্র করতে পুলিশ, এপিবিএন, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে ১০ সহস্রাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

জানাজা ও দাফনকাজ সম্পন্ন হবে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পাকিস্তানের স্পিকার, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতসহ বেশ কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, মরদেহবাহী গাড়ি ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় থাকবে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জানাজাস্থলে আসা ব্যক্তিদের ব্যাগ বা কোনো ধরনের ভারী সামগ্রী বহন না করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে অনুষ্ঠিতব্য এই জানাজা বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

ডিএমপির ঘোষিত রুট অনুযায়ী, মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে ও কুড়িল ফ্লাইওভার হয়ে প্রথমে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়া হবে। সেখান থেকে মহাখালী ফ্লাইওভার, জাহাঙ্গীর গেট ও বিজয় সরণি হয়ে কফিন আনা হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। জানাজা চলাকালীন ফার্মগেট, বিজয় সরণি, আসাদগেট ও গণভবন ক্রসিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সাধারণ যান চলাচল বন্ধ থাকবে। জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠসহ মতিঝিল, শাহবাগ ও উত্তরা এলাকায় নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হবে। দাফন প্রক্রিয়া চলাকালীন সেখানে পরিবারের সদস্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বিদেশি অতিথি এবং বিএনপির মনোনীত জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাইরে অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের প্রথম এই নারী প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন আজ: ১০ সহস্রাধিক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, থাকছে ৫ স্তরের সুরক্ষা বলয়

আপডেট সময় : ১১:১৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন ও ‘বিশেষ নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনে ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়াকে নিশ্ছিদ্র করতে পুলিশ, এপিবিএন, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে ১০ সহস্রাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

জানাজা ও দাফনকাজ সম্পন্ন হবে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পাকিস্তানের স্পিকার, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতসহ বেশ কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, মরদেহবাহী গাড়ি ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় থাকবে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জানাজাস্থলে আসা ব্যক্তিদের ব্যাগ বা কোনো ধরনের ভারী সামগ্রী বহন না করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে অনুষ্ঠিতব্য এই জানাজা বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

ডিএমপির ঘোষিত রুট অনুযায়ী, মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে ও কুড়িল ফ্লাইওভার হয়ে প্রথমে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়া হবে। সেখান থেকে মহাখালী ফ্লাইওভার, জাহাঙ্গীর গেট ও বিজয় সরণি হয়ে কফিন আনা হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। জানাজা চলাকালীন ফার্মগেট, বিজয় সরণি, আসাদগেট ও গণভবন ক্রসিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সাধারণ যান চলাচল বন্ধ থাকবে। জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠসহ মতিঝিল, শাহবাগ ও উত্তরা এলাকায় নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হবে। দাফন প্রক্রিয়া চলাকালীন সেখানে পরিবারের সদস্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বিদেশি অতিথি এবং বিএনপির মনোনীত জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাইরে অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের প্রথম এই নারী প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।