ই-সিগারেট, যা ‘ভ্যাপিং’ নামে পরিচিত, মূলত একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র যা তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করে। এই বাষ্পে নিকোটিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ব্যবহারকারী শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন। ২০১২ সালে বাংলাদেশে প্রথম আমদানি হওয়া এই যন্ত্রটি এর নিরীহ ধোঁয়া এবং মিষ্টি সুবাসের কারণে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিক্রেতারা প্রচলিত সিগারেটের চেয়ে এটিকে নিরাপদ বলে দাবি করলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-সিগারেটে থাকা নিকোটিন ব্যবহারকারীর মধ্যে আসক্তি তৈরির প্রধান কারণ। জাতীয় হৃদ্রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্রের চিকিৎসক অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে ই-সিগারেটে নিকোটিনের মাত্রা প্রচলিত সিগারেটের চেয়েও বেশি হতে পারে, যা আসক্তির ঝুঁকি বাড়ায়। তরুণ ও কিশোরদের এই পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও ব্যাপক হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
ই-সিগারেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে বিভিন্ন গবেষণায় এটি নিরাপদ নয় বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা ই-সিগারেট ব্যবহার করে, তাদের সাধারণ সিগারেটে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। যদিও আইন করে সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবুও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করা যায়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, ধূমপায়ীরা বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার শুল্ক-কর পরিশোধ করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের মতে, বাংলাদেশ তামাকজনিত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ তামাকজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।
রিপোর্টারের নাম 



















