রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই বহু শ্রমজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে বের হন। স্থানীয়দের মতে, এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন শহরমুখী হন। রংপুর শহরের শিমুলবাগ, জামতলা মোড়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, বেতপট্টি ও রেলস্টেশন এলাকায় সকাল থেকেই তারা জড়ো হন। শ্রমিকদের এই সমাগমকে অনেকে ‘মানুষ বিক্রির হাট’ হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে তাদের শ্রম, সময় এবং কঠোর পরিশ্রম বিক্রি হয়।
এই হাটে আসা শ্রমিকদের সঙ্গে থাকে কাজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন কাস্তে, কোদাল, শাবল, দা বা ডালি। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে বসে থাকেন তারা, এই আশায় যে কেউ এসে কাজের জন্য ডেকে নেবে। লক্ষ্মীটারী গ্রামের আবুল হোসেন জানান, ভোরে বের হলেও সারা দিন বসে থাকতে হয়। কাজ পেলে আয় হয়, না হলে কিছুই জোটে না। কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল চরের নওশা আলী ও আব্দুল হাকিম বলেন, কাজ না থাকলে সারা দিন অপেক্ষা করেও কোনো আয় থাকে না। গান্নারপাড় এলাকার দুলু মিয়া ও মোখলেস ইসলাম জানান, দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পেলেও তা নিয়মিত নয়। অনেক দিন কোনো কাজই থাকে না। তাদের মতে, এখন কাজের চেয়ে মানুষ বেশি, তাই তারা যেন হাটে বসে থাকা পণ্যের মতো হয়ে গেছেন।
গঙ্গাচড়া উপজেলার আওলিয়ার হাট, বিনবিনা, জয়রামওঝা, শংকরদহ চরে গিয়ে দেখা যায়, বহু পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে গেছেন। কেউ গেছেন বগুড়া, কেউ কুমিল্লা, ফেনী, সিলেট কিংবা ঢাকায়। ফেনীতে থাকা এক শ্রমিকের স্ত্রী আকলিমা বেগম জানান, এলাকায় কাজ না থাকায় তাদের বাইরে যেতে হয়, নতুবা সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া জানান, এই চরে প্রায় ৬০০ পরিবার রয়েছে এবং অন্তত ৮০০ মানুষ শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ইতোমধ্যে অন্য জেলায় কাজের জন্য গেছেন, আর বাকিরা প্রতিদিন শহরে গিয়ে কাজ খোঁজেন।
রিপোর্টারের নাম 























