ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

সংগ্রামী নেত্রীর বিদায়ে শোকাচ্ছন্ন সারাদেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধ্রুবতারা, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিরবিদায়ের সংবাদে সারা দেশে এক শোকাতুর ও বেদনাবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালের সামনে ভিড় জমান। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে, যেখানে প্রিয় নেত্রীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতারা—সবার চোখেমুখে ছিল অভিভাবক হারানোর আর্তনাদ। শুধু হাসপাতাল প্রাঙ্গণই নয়, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও হাজারো সমর্থকের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

প্রিয় নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় হাসপাতালের সামনেই মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোরআন তিলাওয়াত ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। শোকে মুহ্যমান মহিলা দলের কর্মীদের বিলাপ করতে দেখা যায়, যারা বেগম জিয়াকে তাদের শেষ আশ্রয় ও মাতৃসম মনে করতেন। বিএনপি নেতা ড. আব্দুল মঈন খান ও শামসুজ্জামান দুদুসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা মরহুমার আপসহীন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি আমৃত্যু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি এবং কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য রাজপথে লড়াই করেছেন। এই শোক কেবল রাজধানী ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, এমনকি গ্রামগঞ্জেও শোকের গভীর ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে অফিসপাড়া ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সর্বত্রই ছিল এই মহীয়সী নেত্রীর প্রয়াণের শোকবার্তা।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আজ বুধবার সাধারণ ছুটিসহ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে সারাদেশে কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আজ জোহরের নামাজের পর জাতীয় সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ প্রাঙ্গণে বিশাল জানাজা শেষে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। আশির দশকে রাজনীতিতে আসার পর থেকে ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা—সবক্ষেত্রেই তাঁর বীরত্বগাথা ও আপসহীন ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

সংগ্রামী নেত্রীর বিদায়ে শোকাচ্ছন্ন সারাদেশ

আপডেট সময় : ১১:০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধ্রুবতারা, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিরবিদায়ের সংবাদে সারা দেশে এক শোকাতুর ও বেদনাবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালের সামনে ভিড় জমান। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে, যেখানে প্রিয় নেত্রীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতারা—সবার চোখেমুখে ছিল অভিভাবক হারানোর আর্তনাদ। শুধু হাসপাতাল প্রাঙ্গণই নয়, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও হাজারো সমর্থকের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

প্রিয় নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় হাসপাতালের সামনেই মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোরআন তিলাওয়াত ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। শোকে মুহ্যমান মহিলা দলের কর্মীদের বিলাপ করতে দেখা যায়, যারা বেগম জিয়াকে তাদের শেষ আশ্রয় ও মাতৃসম মনে করতেন। বিএনপি নেতা ড. আব্দুল মঈন খান ও শামসুজ্জামান দুদুসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা মরহুমার আপসহীন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি আমৃত্যু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি এবং কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য রাজপথে লড়াই করেছেন। এই শোক কেবল রাজধানী ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, এমনকি গ্রামগঞ্জেও শোকের গভীর ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে অফিসপাড়া ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সর্বত্রই ছিল এই মহীয়সী নেত্রীর প্রয়াণের শোকবার্তা।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আজ বুধবার সাধারণ ছুটিসহ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে সারাদেশে কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আজ জোহরের নামাজের পর জাতীয় সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ প্রাঙ্গণে বিশাল জানাজা শেষে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। আশির দশকে রাজনীতিতে আসার পর থেকে ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা—সবক্ষেত্রেই তাঁর বীরত্বগাথা ও আপসহীন ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।