ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন: দিল্লির হাইকমিশনারের সঙ্গে দুই উপদেষ্টার জরুরি বৈঠক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা। মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় ৪৫ মিনিটের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। একপর্যায়ে তাদের সাথে যোগ দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। বৈঠকে দিল্লির বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে হাইকমিশনারের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বিষয়টিকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে জানান যে, সময় সময় রাষ্ট্রদূতদের সাথে আলোচনার জন্য এমন বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে গত সোমবার দুপুরে জরুরি ভিত্তিতে হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন মহলের ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন ঘেরাও করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লি, আগরতলা ও মুম্বাই মিশনে বাংলাদেশ ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলেও সম্প্রতি মুম্বাই মিশনে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই দেশ একে অপরের হাইকমিশনারকে তলব করার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর বড় ধরনের সহিংসতার যে অভিযোগ তুলেছেন, বাংলাদেশ সরকার তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের এই বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে ভারতের বিরত থাকা উচিত। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে নিযুক্ত হাইকমিশনারকে ঢাকায় এনে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সরকার ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন: দিল্লির হাইকমিশনারের সঙ্গে দুই উপদেষ্টার জরুরি বৈঠক

আপডেট সময় : ১১:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা। মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় ৪৫ মিনিটের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। একপর্যায়ে তাদের সাথে যোগ দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। বৈঠকে দিল্লির বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে হাইকমিশনারের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বিষয়টিকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে জানান যে, সময় সময় রাষ্ট্রদূতদের সাথে আলোচনার জন্য এমন বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে গত সোমবার দুপুরে জরুরি ভিত্তিতে হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন মহলের ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন ঘেরাও করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লি, আগরতলা ও মুম্বাই মিশনে বাংলাদেশ ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলেও সম্প্রতি মুম্বাই মিশনে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই দেশ একে অপরের হাইকমিশনারকে তলব করার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর বড় ধরনের সহিংসতার যে অভিযোগ তুলেছেন, বাংলাদেশ সরকার তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের এই বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে ভারতের বিরত থাকা উচিত। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে নিযুক্ত হাইকমিশনারকে ঢাকায় এনে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সরকার ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।