ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মিথ্যা আশ্বাস নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাই তুলে ধরবে জামায়াত: আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কোনো অবাস্তব বা মিথ্যা আশ্বাস প্রদান করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কেবল সেই পরিকল্পনাগুলোই জাতির সামনে পেশ করা হবে যা বাস্তবায়ন করা দলটির পক্ষে সম্ভব এবং দেশবাসীর সহযোগিতা পেলে সেই পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে কার্যকর করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘হ্যালো আওয়ার লিডার’ শীর্ষক সরাসরি মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তারুণ্যের শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের ভাবনা ও প্রত্যাশা জানার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ইতিপূর্বে একটি ‘জনতার ইশতেহার’ প্রকাশ করেছে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও স্বপ্নসমূহকে যাচাই-বাছাই করে দলের চূড়ান্ত ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের ভাবনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে একটি বাস্তবমুখী কর্মসূচি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

দেশের ‘জেনারেশন জি’ তথা বর্তমান ছাত্র ও যুবসমাজের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আদর্শকে তরুণদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত তারুণ্য কোনো বয়সের ফ্রেমে বন্দি নয়, বরং এটি একটি মানসিক দৃঢ়তার নাম। সামান্য বাধায় যারা পিছু হটে না এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিচল থাকে, তেমন একটি তরুণ নেতৃত্বের বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী।

রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে এ দেশের মানুষ নিরন্তর শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে এবং সত্তরের নির্বাচনের ফলাফল অস্বীকার করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও এখনো একটি ইনসাফভিত্তিক ও পূর্ণাঙ্গ বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশে একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম ছিল, যেখানে সাধারণ জনগণ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্বিচারে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবিকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমনের চেষ্টাই মূলত সর্বশেষ গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করে এবং সেখানে তরুণ সমাজই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগকে নতুন নেতৃত্বের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসকে স্মরণ করে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পোরশা উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রাশেদ, সম্পাদক শহিদুল

মিথ্যা আশ্বাস নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাই তুলে ধরবে জামায়াত: আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ১০:১৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কোনো অবাস্তব বা মিথ্যা আশ্বাস প্রদান করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কেবল সেই পরিকল্পনাগুলোই জাতির সামনে পেশ করা হবে যা বাস্তবায়ন করা দলটির পক্ষে সম্ভব এবং দেশবাসীর সহযোগিতা পেলে সেই পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে কার্যকর করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘হ্যালো আওয়ার লিডার’ শীর্ষক সরাসরি মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তারুণ্যের শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের ভাবনা ও প্রত্যাশা জানার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ইতিপূর্বে একটি ‘জনতার ইশতেহার’ প্রকাশ করেছে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও স্বপ্নসমূহকে যাচাই-বাছাই করে দলের চূড়ান্ত ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের ভাবনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে একটি বাস্তবমুখী কর্মসূচি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

দেশের ‘জেনারেশন জি’ তথা বর্তমান ছাত্র ও যুবসমাজের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আদর্শকে তরুণদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত তারুণ্য কোনো বয়সের ফ্রেমে বন্দি নয়, বরং এটি একটি মানসিক দৃঢ়তার নাম। সামান্য বাধায় যারা পিছু হটে না এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিচল থাকে, তেমন একটি তরুণ নেতৃত্বের বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী।

রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে এ দেশের মানুষ নিরন্তর শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে এবং সত্তরের নির্বাচনের ফলাফল অস্বীকার করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও এখনো একটি ইনসাফভিত্তিক ও পূর্ণাঙ্গ বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশে একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম ছিল, যেখানে সাধারণ জনগণ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্বিচারে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবিকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমনের চেষ্টাই মূলত সর্বশেষ গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করে এবং সেখানে তরুণ সমাজই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগকে নতুন নেতৃত্বের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসকে স্মরণ করে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।