বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিরবিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে চার দশকের একটি প্রভাবশালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি দলকে টেনে তুলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়া এবং ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করা এই নেত্রী এমন এক সময়ে বিদায় নিলেন, যখন দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র আমূল পরিবর্তনের মুখে। দীর্ঘ সময় ধরে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার মধ্যকার দ্বৈরথই ছিল এ দেশের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। বর্তমানে একজন না ফেরার দেশে চলে গেছেন, আর অন্যজন ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। এই দুই প্রধান নেত্রীর অনুপস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন ও সমীকরণ দানা বাঁধছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ বর্তমানে মাঠের রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এই শূন্যস্থানে একদিকে বিএনপি যেমন তাদের প্রভাব পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী জোট নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ডাকসুর সাবেক জিএস মুশতাক হোসেনের মতে, ইতিহাসের চাকা কখনো পেছনে ঘোরে না; ফলে আগের সেই দ্বি-দলীয় রাজনীতির চিরচেনা রূপ ফিরবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নির্বাচনের পরেও এই পরিবর্তনের ধারা স্পষ্ট হতে সময় লাগবে। লেখক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, আসন্ন নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তবেই রাজনীতিতে একটি স্থিতিশীলতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকরা এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এই সুযোগে বিএনপি ও জামায়াত দুটি আলাদা ‘সমঝোতা জোট’ গঠন করে নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে। বিএনপি অনেক ছোট-বড় দলকে নিজেদের বলয়ে টেনে নিলেও জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত জোটটি উগ্র ডানপন্থার উত্থান নিয়ে উদারপন্থীদের মনে শঙ্কা তৈরি করেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতো নতুন শক্তিগুলোও শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় আসায় রাজনীতির মেরুকরণ আরও জটিল হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেনের মতে, সামনে এখন দুটি পথ—হয় ডানপন্থীদের সঙ্গে এক অস্থির সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে দেশ যাবে, অথবা সকল দলের জন্য গণতান্ত্রিক দুয়ার খুলে দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল করার পথে এগোবে। আগামীর এই পথচলাই নির্ধারণ করবে বেগম খালেদা জিয়া পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য।
রিপোর্টারের নাম 

























