দেশব্যাপী চলমান ঘন কুয়াশার কারণে গত দুই দিন সদরঘাট থেকে চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। কুয়াশা কমে আসায় ফের লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর একাধিক সূত্র বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছে।
গত রবিবার ও সোমবার কুয়াশা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কায় দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিআইডব্লিউটিএ। আজ কুয়াশা কমে যাওয়ায় পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সদরঘাটের লালকুঠিসহ বরিশালগামী বিভিন্ন লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, চাঁদপুর ও বরিশালগামী লঞ্চগুলোর স্টাফরা যাত্রী ডেকে লঞ্চে তুলছেন।
সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোর মধ্যে বরিশালগামী শুভরাজ-৯ ও পারাবাত-১৮–এ যাত্রী সমাগম দেখা গেছে। এ ছাড়া চাঁদপুর হয়ে ভোলাগামী এমভি রহমত, চাঁদপুরগামী দোয়েলপাখি-১ ও দোয়েলপাখি-২, জমজম-৭, বোগদাদিয়া-১৩, আসা-যাওয়া-২, এমভি ইয়াদ ইন্ডিয়া, এমভি সম্রাট-২ এবং বরিশালের হিজলা থানার ভাষানচরগামী এমভি সম্রাট-২–সহ বিভিন্ন লঞ্চে মোটামুটি যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।
পুনরায় লঞ্চ চলাচলের নির্দেশনার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর সদরঘাটের পরিবহন পরিচালক আকতার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আজ সকাল থেকেই লঞ্চ চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা জনসংযোগ শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইনস্পেক্টর হুমায়ুন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নির্দেশনার পর আজ সকাল থেকেই মোটামুটি সব রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। মূলত গত দুই দিন ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। কুয়াশা কমে যাওয়ায় আবারও বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। তিনি বলেন, নদীতে লঞ্চ চলাচলের সময় সামনে প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত দেখা গেলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরা হয়, তখন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে না।
ঘাটের বিভিন্ন লঞ্চের স্টাফরা জানান, গত দুই দিন কুয়াশার কারণে বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছিল। তবে আজ বিকাল ৩টা থেকে অনুমতি দেওয়ার পর তারা লঞ্চ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
উল্লেখ্য, ঘন কুয়াশার কারণে গত বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে চার জন নিহত হন। এ ছাড়া গতকাল রাত ৯টার দিকে পদ্মা নদীতে বরিশালের মুলাদীগামী লঞ্চ এমভি মহারাজ-৭ দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই দিন ঘন কুয়াশার সময় লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয়নি বিআইডব্লিউটিএ।
রিপোর্টারের নাম 




















